You are here
Home > Uncategorized > ‘জাহাঙ্গীরের মতো মেয়রই তো চাই আমরা ‘

‘জাহাঙ্গীরের মতো মেয়রই তো চাই আমরা ‘

গাজীপুর প্রতিনিধিঃ
করোনাভাইরাসের অন্যতম হটস্পট হিসেবে দেখা চিহ্নিত হয়েছে গাজীপুর সিটি। আর এই মহামারি মোকাবিলায় দিন-রাত খেটে চলেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। দিনের বেলায় দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ শেষে গভীর রাত পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সভা করেন সিটির মানুষদের নিরাপদ রাখতে। এর বাইরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও ভেবেছেন শুরু থেকেই। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের তৎপরতা ও আন্তরিকতা দেখে অভিভূত নগরবাসী। একই সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং পকেটের পয়সা খরচ করে রাত দিন মানুষদের জন্য কাজ করে যাওয়া মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অনেকে।
হামিদুর রহমান নামে গাজীপুর এলাকার একজন চিকিৎসক বলেন, ‘করোনা সংকট তৈরী হওয়া পর থেকে মেয়র কখন ঘুমান জানিনা। সারা দিন-রাত তো দেখি শুরু কাজ করছেন। কাজের প্রতি যে আন্তরিকতা মেয়রের রয়েছে তা অন্য কোন জনপ্রতিনিধিকে দেখাতে দেখিনি। জাহাঙ্গীরের মতো মেয়রই তো চাই আমরা। আমি দোয়া করি আল্লাহ মেয়রকে সুস্থ রাখুক।’
জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দ্রুত ও সহজ মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এ জন্য নিজের মমতাময়ী মা, প্রিয়তমা স্ত্রী এবং প্রাণের সন্তানের থেকে আলাদা হয়ে গেছেন জাহাঙ্গীর আলম। যাতে গাজীপুরবাসীর জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে পারেন।
করোনা থেকে গাজীপুরের মানুষকে রক্ষার তাগিদে চীন থেকে আমদানি করেছেন ৭০ হাজার কিট। বিনামূল্যে বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণের উদ্দেশ্যে আনা হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মের মারপ্যাঁচে সেগুলো আটকে রয়েছে। তবে পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক, স্যানিটাইজারসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আনা সুরক্ষা সামগ্রীগুলো বিতরণ করা হচ্ছে এখনও। শুধু গাজীপুর নয়, চারপাশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালেও সুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যেন আগেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে জাপান থেকে উন্নতমানের ফগার মেশিনসহ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাড়া বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চলমান পদক্ষেপগুলো অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, শুধু সুরক্ষা সামগ্রী না, লকডাউনের এই সময়ে বেকার হয়ে যাওয়া গাজীপুরের নিম্নআয়ের পরিবারে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন মেয়র। এ জন্য তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা করে কমিটি করে দিয়েছেন। গঠন করা হয়েছে সমন্বিত ত্রাণ বিতরণ সেল। নিম্নআয়ের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারেরও খোঁজ নিচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া মাত্রই পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী।
গাজীপুরের সালনার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, ‘লকডাউনের কারণে অনেকদিন রিক্সা নিয়ে বের হতে পারি না। একদিন রিক্সা না চালালে উপোষ থাকা লাগে। প্রথম দুদিন অনেক কষ্ট করেছি। এরপর মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ত্রাণ পেয়েছি। এ পর্যন্ত দুইবার খাবার পেয়েছি। ফলে এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’
গাজীপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একজন অধ্যাপক বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী পাওয়ার আগেই মেয়রের কাছ থেকে পিপিই, গ্লাভস, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার পেয়েছেন অনেক চিকিৎসক। ফলে শুরু থেকেই আমরা চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এখনও তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে অভ্যন্তরীণভাবে আমরা সচেতন থাকলেও বহিরাগত সমস্যার কারণে গাজীপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।’
এ প্রসঙ্গে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কাজ করবো বলেই তো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে করোনা মোকাবিলার কাজ আর অন্য যেকোন কাজের চেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। আমার বৃদ্ধা মাকে ছাড়া অনেকদিন আলাদা থাকছি। এটি খুবই কষ্টের। মাকে না দেখে খেতেই পারি না। স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকেও ছুটি নিয়েছি। আলাদা থাকছি, শুধু মানুষের কল্যাণে যেন কাজ করতে পারি এই ভেবে। এখন কোনো পিছুটান নেই, প্রতিবন্ধকতা নেই। যেদিকে প্রয়োজন হচ্ছে ছুটে যাচ্ছি।’
বেশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থায় ছিলেন জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমরা খুবই সচেতন ও সতর্ক ছিলাম। কিন্তু বহিরাগত কিছু সমস্যার কারণে হঠাৎ এখানে করোনা শনাক্ত শুরু হয়। বিশেষ করে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কারণে তালগোল পেকে যায়। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সবাইকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো।’ এখনও গাজীপুরে কেউ করোনায় মারা না যাওয়ার বিষয়টি আশা জাগাচ্ছে বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply

Top