You are here
Home > খোলা আকাশ > জামায়াত-শিবির যেসব কৌশলে ঢুকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে !!!!

জামায়াত-শিবির যেসব কৌশলে ঢুকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে !!!!

স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটি প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দাওয়াত ও লোভনীয় উপহার দিয়ে ম্যানেজ করে শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারে নতুন কৌশলে সক্রিয় এবার জামায়াত-শিবির। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অনুকূলে পরিবেশ সৃষ্টিতে তৎপর স্বাধীনতাবিরোধী এই উগ্রবাদী এ সংগঠন। জামায়াত-শিবিরের এ গোপন তৎপরতা রাষ্ট্রের জন্য হুমকি অভিহিত করে সরকারকে সতর্ক করেছে একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে সেখানে গোপনে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে জামায়াত-শিবির। ব্যক্তিগত দাওয়াত, উপহার সামগ্রী প্রদান, শিক্ষা বৈঠক, খেলাধুলার আড়ালে চলছে উগ্রবাদী তৎপরতা।

‘জামায়াত-শিবিরের গোপন তৎপরতা ও কর্মকা- প্রসঙ্গে বিশেষ প্রতিবেদন’ শিরোনামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক গোপন প্রতিবেদনে চলে এসেছে উদ্বেগজনক এসব তথ্য। প্রতিবেদন পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা প্রশাসন। জানা গেছে, মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জামায়াত-শিবিরের দাওয়াত গ্রহণসহ এ সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি), শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের পর মাউশি এখনও কোন পদক্ষেপ না নিলেও মাদ্রাসা বোর্ড তার অধীন দেশের সকল মাদ্রাসার প্রধানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠানো হয়েছে সকল মাদ্রাসায়ও।

জানা গেছে, দেশে জঙ্গী হামলা, হত্যাসহ জামায়াত-শিবিরের প্রেক্ষাপটে সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানের আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। অবিলম্বে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ওপর নজরদারি বৃদ্ধিসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনের একটি কপি দৈনিক জনকণ্ঠের হাতে এসেছে। যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ ও উপহার সামগ্রী প্রদান করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে, যা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে রাজধানীর পাশে গাজীপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানে জামায়াত-শিবিরের নয়া তৎপরতার প্রমাণ পাওয়ার পর দেশের সকল শিক্ষাঙ্গনের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট চিত্র ও সুপারিশ করা হয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। যেখানে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে একাধিক কলেজের অধ্যক্ষের দফতরে জামায়াত-শিবির নেতাদের গোপন বৈঠকের ছবিও দেয়া হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম তার অফিস কক্ষে শিবির নেতাদের দেয়া উপহার সামগ্রী গ্রহণ করার সময়ের ছবিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এছাড়া একাধিক প্রতিষ্ঠানে জামায়াত-শিবিরের ‘দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠক-১৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। এসকল কাজই চলছে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ম্যানেজ করে।

গাজীপুরে গোপন তৎপরতা ও কর্মকা- প্রসঙ্গে বিশেষ প্রতিবেদন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নিকটবর্তী ও শিল্পাঞ্চল-ঘনবসতি জেলা হিসেবে গাজীপুর জেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলায় রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল ও বসবাসরত মানুষজন শিল্পমুখী হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্দেশে জেলায় জামায়াত-শিবিরের গোপন তৎপরতা ও কর্মকা- ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টঙ্গী সরকারী কলেজ, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ওই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত-শিবির টার্গেট হিসেবে সামনে রেখে তাতে কার্যক্রম পরিচালনায় মনোযোগ দিচ্ছে। কারণ, এ প্রতিষ্ঠান তিনটিতে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে, যার বেশিরভাগই অনাবাসিক/মেসে বসবাস করে। এছাড়া, গাজীপুর জেলায় জামায়াত-শিবির গোপনভাবে সাংগঠনিকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা/তৎপরতা চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যক্তিগত দাওয়াত ও উপহার সামগ্রী প্রদানে কর্মী সংগ্রহ

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর জেলা শিল্পাঞ্চন ও ঘনবসতি হওয়ায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা সহজে জনসাধারণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে জেলার কতিপয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের কার্যক্রম চলছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের কার্যক্রম চলছে। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যক্তিগত দাওয়াত ও উপহার সামগ্রী প্রদানের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর তথ্য মিলেছে। উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, সম্প্রতি গাজীপুর জেলাধীন ‘টঙ্গী সরকারী কলেজ’-এর অধ্যক্ষের নিজ অফিস কক্ষে টঙ্গী/গাজীপুর সদর অঞ্চলের শিবির কর্মীদের এক গোপনীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ওই বৈঠকে তাদের সাংগঠনিক কর্মকা- চালানোর জন্য কলেজ ক্যাম্পাস, খেলার মাঠ ব্যবহারে অধ্যক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এ কলেজে জামায়াত-শিবিরের পরিচয় গোপন রেখে তারা তাদের কর্মী সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত করবে বলে জানা গেছে। বৈঠক শেষে শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামকে জামায়াত-শিবিরের ক্যালেন্ডার, বই-পুস্তক ও উপহার সামগ্রী প্রদান করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এছাড়া সম্প্রতি এ কলেজ মাঠে জামায়াত-শিবিরের কতিপয় নেতাকর্মী খেলাধুলার মাধ্যমে একত্রিত হয়ে গোপনে বৈঠক করেছে। বৈঠকে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত, সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, টঙ্গী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন, গাজীপুর মহানগর জামায়াত আমীর ইবনে ফয়েজ, সেক্রেটারি খায়রুল হাসান ও সহ-সেক্রেটারি মুহাম্মদ হোসেন আলী এবং টঙ্গী পূর্ব থানার আমীর মোশারফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্নের লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিল, তবে এর বাইরে অন্য কোন উদ্দেশ্য পরিকল্পনা ছিল কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে বলছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠক ’১৭-এর নামে কর্মী সংগ্রহ ও পরিকল্পনা গ্রহণ

গত ১৯ জানুয়ারি মাসে টঙ্গী এলাকায় ছাত্রশিবির কর্তৃক গাজীপুর মহানগর শিবিরের কার্যক্রমে গতিশীল করতে গোপনে ‘দায়িত্বশীল শিক্ষা বৈঠক’ ’১৭ করে। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসির আরাফাত, জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ এসএম সানাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামসহ জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে টঙ্গীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। উক্ত শিক্ষা বৈঠকে নতুন কর্মী সংগ্রহ, কর্মীদের আত্মশুদ্ধি বৃদ্ধি ও আউটপুট ভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া টঙ্গী এলাকায় গাজীপুর মহানগর শিবিরের বার্ষিক সদস্য সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সমাবেশে গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ খাইরুল হাসান, কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে জেলায় শিবিরের সংগঠনের উপশাখা তৈরি ও মজবুত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মন্তব্য

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজীপুর জেলার টঙ্গী সরকারী কলেজ, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ অতীব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে জামায়াত-শিবির উক্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট হিসেবে তাদের কর্মী সংগ্রহসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা/কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দাওয়াত, উপহারসামগ্রী প্রদান, শিক্ষা বৈঠক, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, সম্মেলনসহ নানামুখী কর্মসূচীর আড়ালে কর্মী সংগ্রহের উদ্দেশে তৎপরতা চালাচ্ছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

আরও বলা হয়, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা টঙ্গী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ ও উপহার সামগ্রী প্রদানপূর্বক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করছে, যা রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়, টঙ্গী সরকারী কলেজ, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকার দলীয়পন্থী শিক্ষকদের অধ্যক্ষ/প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়নের মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম রোধ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া যেতে পারে।

গাজীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত দাওয়াতে অংশগ্রহণ ও উপহার সামগ্রী গ্রহণ হতে বিরত থাকতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে।

এছাড়া সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের কর্মী সংগ্রহ ও সাংগঠনিক কর্ম তৎপরতাসহ সরকার বিরোধী কর্মকা- প্রতিরোধে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের কর্মকা-ের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক ও তৎপর থাকতে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

এদিকে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে দেশের সকল মাদ্রাসায় পাঠানো পাঁচ জরুরী নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ওই নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। জানা গেছে, নানা কারণে জঙ্গীবাদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে জঙ্গী হামলা, কল্যাণপুর জাহাজ বিল্ডিংসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গী কর্মকা-ে মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।

বোর্ড রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোঃ মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশনামূলক ওই পত্রে মাদ্রাসা এবং এর আবাসনে জঙ্গী তৎপরতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের নিয়ে সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদবিরোধী আলোচনার আয়োজন করা, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক কারণ ছাড়া ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাদের সম্পর্কে নিকটবর্তী থানা ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বোর্ডের নিকট নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করা, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদবিরোধী নিয়মিত এ্যাডভোকেসি কর্মকা-ের উদ্যোগ গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ, মাদক গ্রহণ ইত্যাদি প্রতিরোধে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফর্মে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের করণীয় সম্পর্কে ধারণা প্রদান, শিক্ষক-অভিভাবকদের জন্য অনুসরণীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করে বিলবোর্ডের মাধ্যমে দৃশ্যমান স্থানে তা টাঙ্গিয়ে দেয়া এবং আদর্শগতভাবে জঙ্গীবাদ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ যথাযথভাবে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম ছায়েফ উল্যা বলেন, জঙ্গীবাদ দমনের বিষয়টি চলমান রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে আমরা নতুন করে আবারও সকল মাদ্রসাায় এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়েছি। যাতে জঙ্গীবাদ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, প্রতি মাসে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোথাও অভিযোগ পাওয়া গেলে জেলা শিক্ষা অফিসারদের মাঠপর্যায়ে মনিটরিং করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে মাউশি অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেছেন, আমি এখনও নির্দেশটি হাতে পাইনি। তবে মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশ দেবে আমরা সে অনুসারে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

Leave a Reply

Top