You are here
Home > জাতীয় > ছয় বছরে নিহতদের ৬৪ ভাগ বাঙালি

ছয় বছরে নিহতদের ৬৪ ভাগ বাঙালি

পাহাড়ধসে বিধ্বস্ত একটি ঘর। ছবিটি গত বুধবার রাঙামাটি শহরতলির তিনামনিঘোনা এলাকা থেকে তোলা l

স্টাফ রিপোর্টারঃ গত ছয় বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে যত মানুষ মারা গেছেন, তাঁদের ৬৪ শতাংশই বাঙালি। নিহত এসব বাঙালির মধ্যে আবার প্রায় সবাই সমতল থেকে যাওয়া পুনর্বাসিত বাঙালি।

দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ, স্থপতি, ভূতাত্ত্বিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝিতেরাষ্ট্রীয়ভাবে পাহাড়ে বাঙালিদের পুনর্বাসন শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় অনেক বসতি গড়ে ওঠে। পাহাড়ের ভিন্ন ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কথা মাথায় রাখা হয়নি। এখন এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

২০১২ সাল থেকে এ বছরের চলতি মাস পর্যন্ত পার্বত্য তিন জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ১৬৬ জন পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন। তিন জেলার ত্রাণ কার্যালয় থেকে এই হিসাব পাওয়া গেছে। বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ ডিজাস্টার ফোরামের হিসাবেওনিহতের সংখ্যা একই। এবার রাঙামাটিতে ভূমিধসের উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে নিহত চার সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা এই হিসাবে ধরা হয়নি।

ছয় বছরে নিহত ১৬৬ জনের মধ্যে ১০৬ জনই বাঙালি। গত সোম ও মঙ্গলবার ভয়াবহ পাহাড়ধসে তিন জেলায় নিহত ১১১ জনের মধ্যে ৫৩ জন বাঙালি। ২০১২ থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত পাহাড়ধসে ৫৫ জন নিহত হন। এর মধ্যে ৫৩ জনই ছিলেন বাঙালি।

গত ছয় বছরে বেশির ভাগ পাহাড়ধসের শিকার হয়েছে বাঙালি জনপদ। পাহাড়ের বসতি নিয়ে কাজ করা স্থপতি হেন হেন মনে করেন, সমতলের বাঙালিদের পাহাড়ের ভিন্ন ধারার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব এ জন্য দায়ী। তিনি বলেন, বাঙালিরা সাধারণত পাহাড়ের পাদদেশে বাড়িঘর করে। অনেক ক্ষেত্রে পাহাড় কেটে বসতি করা হয়েছে। পাহাড়িরা ঘর করে পাহাড়ের শীর্ষে বা গায়ে। তাদের ঘরগুলো বাঁশের মাচাং ঘর। মেঝে মাটি থেকে উঁচুতে থাকে। পাহাড়ের প্রকৃতির সঙ্গে এটি মানানসই।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পার্বত্য জেলায় পাহাড়িদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ, বাঙালিদের ৪৯ শতাংশ। ১৯৬০ সালে ৯ শতাংশ বাঙালি ১৯৮০ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ শতাংশে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার প্রথম আলোকে বলেন, বন কেটে, পাহাড় কেটে যত্রতত্র বাঙালি পুনর্বাসন করা হয়েছে। সমতলের মানুষ পাহাড়ের ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে পরিচিত নয়। শাসকশ্রেণিও তা বিবেচনায় রাখেনি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় পাথুরে না হলেও গাছের আচ্ছাদন এসব পাহাড়কে ধস থেকে রক্ষা করে। কিন্তু পাহাড় দিন দিন ন্যাড়া হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তৈরি ‘গ্লোবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস অ্যাসেসমেন্ট: কান্ট্রি রিপোর্ট বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে পাহাড়ের দুই বৃহৎ সংরক্ষিত বন কাসালং ও রাইংখংয়ের বিনাশের চিত্র তুলে ধরা হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল দুই অরণ্যে ১৯৬৩ সালে প্রাকৃতিক বন ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টর। ১৯৯০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার হেক্টরে। ২০০৫ সালে পরিমাণ হয় ৭০ হাজার হেক্টর।

অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘গত এক দশকে পাহাড়ে ধস অনেক বেড়ে গেছে। বন কেটে ফেলার ফলে পাহাড় নাজুক হয়ে গেছে। এখন আমরা জোর করে পুনর্বাসনের ফল পাচ্ছি।’

Leave a Reply

Top