You are here
Home > আন্তর্জাতিক > ‘ছাতি চাপড়াবেন না’ : চীন থেকে ভারত অনেক পিছিয়ে

‘ছাতি চাপড়াবেন না’ : চীন থেকে ভারত অনেক পিছিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নোট বাতিলের পর আর্থিক বৃদ্ধির চাকা গতি হারিয়েছে। চীনের থেকে পিছিয়ে পড়েছে ভারত। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর রঘুরাম বলেছেন, দ্রুততম আর্থিক বৃদ্ধির দাবি করে সরকারের বুক চাপড়ানো আপাতত বন্ধ থাক। আগে আগামী ১০ বছর ধরে টানা তেজি বৃদ্ধির হার বজায় রেখে তবেই ছাতি চাপড়ানো যেতে পারে।

সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ে দেয়া সাক্ষাত্কারে রাজন বলেছেন, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মতো বিষয় নিয়ে সারা বিশ্বকে ভারত জ্ঞান দিতে পারে। কিন্তু আর্থিক বৃদ্ধির ব্যাপারে এখনো অনেকটা পথ পেরোতে হবে ভারতকে। মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি)-এর হার ১০ বছর ধরে ৮০১০ শতাংশ রাখলে তবেই বিশ্বের সামনে মুখ খুলতে পারবে ভারত।

গত বছরের এপ্রিলে রিজার্ভ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর রাজন বলেছিলেন, ভারতের আয়বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক অগ্রগতি মন্দ নয়, তবে তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির হাল খারাপ হওয়ার জন্যই তা এতটা ভালো দেখাচ্ছে। অবস্থাটা অনেকটা অন্ধের দেশে একচক্ষু রাজার মতো। তার এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। ক্ষমতাসীন বিজেপি দলের সাংসদ সুব্রহ্মন্যম স্বামী তার অপসারণের দাবি করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, রাজন মানসিক দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় নন।

রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে তার মেয়াদ বাড়ায়নি মোদি সরকার। গত দু দশকের মধ্যে তিনিই প্রথম গভর্নর যার মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়নি।স্বামীর ওই মন্তব্য নিয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সাবেক গভর্নর। তিনি বলেছেন, তার মন্তব্য প্রসঙ্গ থেকে আলাদাভাবে দেখা হয়েছিল। কোনো কিছুর পূর্বাভাস তিনি করেননি। নিজেদেরকে এতটা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিলেন মাত্র। রাজন বলেছিলেন, গত বছরের এপ্রিলে ওই মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে প্রতি ত্রৈমাসিকেই বৃদ্ধির হার পড়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুনে জিডিপির হার বিগত ত্রৈমাসিকের ৬.১ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই দুটি ত্রৈমাসিকেই চীনের বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৫ শতাংশ। রাজন বলেছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রফতানির পরিমাণ বাড়িয়ে বৃদ্ধির হার ৮ বা ৯ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে। আগামী ১০ বছরে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ হলে তা হবে দারুন ব্যাপার। কিন্তু একইসঙ্গে বলেছেন, এই পরিমাণ বৃদ্ধি ১০ বছর বজায় রাখা সম্ভব হলে তাতেও মধ্যআয়ের পর্যায়ে পৌঁছবে ভারত।

রাজন ২০০৮-এর আন্তর্জাতিক আর্থিক সঙ্কটের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ভারতের অর্থনীতির পরিমাণ খুবই কম, মাত্র আড়াই মিলিয়ন ডলারের। তাও আমরা নিজেদের বড় দেশ বলে মনে করি। চীনের অর্থনীতি ভারতের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। রাজন বলেছেন, এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের তুলনাটা সঙ্গত নয়। একদিকে চীনের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কমতে থাকবে, আর আগামী ১০ বছরে ভারতে দ্রুত বৃদ্ধি হলে সেই তুলনা করা যায়। আর তখনই ভারতকে সবাই সমীহের চোখে দেখবে।

উ. কোরিয়া প্রশ্নে ইউএন ভোটাভুটির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক আবেদন

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপের ব্যাপারে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাধা দেয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এ আবেদন জানায়। খবর এএফপি’র। ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার জ্বালানি ও টেক্সটাইল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহবান জানিয়ে একটি খসড়া জাতিসংঘ প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এছাড়া তারা কিম জং-উনের সম্পদ জব্দ এবং উত্তর কোরিয়ার অতিথি কর্মীদের পারিশ্রমিক দেয়া বন্ধেরও প্রস্তাব দিয়েছে। কূটনীতিক সূত্র জানায়, এ ব্যাপারে শুক্রবার বিশেষজ্ঞদের বৈঠক চলাকালে টেক্সটাইল খাত ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে মার্কিন প্রস্তাবের বিরোধিতা করে রাশিয়া ও চীন।

জাতিসংঘে মার্কিন মিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানাবে যে ১১ সেপ্টেম্বর সোমবার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে আরো অবরোধ আরোপের বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভূটির ব্যাপারে বৈঠক আহবানে ইচ্ছুক ওয়াশিংটন।’ এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অবরোধ আরোপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটির ব্যাপারে যে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয় তা অত্যন্ত দ্রুত করা হয়েছে।

লাভরভ বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিত্যাগে বাধ্য করতে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Top