You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > চ্যানেল এস এর সহকারি জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনকে অমানবিক-নৃশংস নির্যাতন করেছে পুলিশ।

চ্যানেল এস এর সহকারি জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনকে অমানবিক-নৃশংস নির্যাতন করেছে পুলিশ।

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জে মাদক বিক্রির অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যানেল এস এর সহকারি জেলা প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম জীবনকে অমানবিক-নৃশংস নির্যাতন করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাদা দাবি করে পুলিশ। চাদা দিতে রাজি না হলে তার চোখ মুখ বেধে ও পায়ুপথে গলিত মোম ঢেলে নির্যাতন করা হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার বিকেলে জীবন ও তার ছোট ভাইকে হবিগঞ্জ কোর্টের হাজতে দেখতে যায় গণমাধ্যমকর্মীরা। সে সময় দেখা যায় জীবনের দাঁড়াতে পারছে না। তার শরীরের পেছনের অংশে রক্ত জমাট বেঁধে লাল হয়ে গেছে। এ সময় সহকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন জীবন।

জীবন সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে ও আমার ভাইকে পুলিশ বাসায় বেধড়ক লাঠিপেটা করে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে আসে। তারপর থানা হাজতে নিয়ে এসে পুলিশ আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাদা দিতে রাজি না হলে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। একপর্যায়ে তাদের পায়ুপথে উত্তপ্ত গলানো মোম ঢেলে দেয়। এসময় পুলিশ এ নির্যাতনের কথা যদি কাউকে বলে তাহলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সদর থানার এসআই রকিবুল হাসান।

তিনি বলেন, হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে রিপোর্ট করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুখেকোরা। এ কারণে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা পুলিশকে ইন্ধন দেয়। এরপর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হকের নির্দেশে এসআই রকিবুল হাসান ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় আমাকে ও আমার ভাইর উপর পুলিশ অকথ্য নির্যাতন করেছে। তারপর পুলিশ আমরা দুই ভাইয়ের উপর ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুলে।

সিরাজুল ইসলাম জীবনের ছোট বোন মোছা. পারভীন আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় ৪/৫ জন পুলিশ আমাদের দোকানে যায়। তারপর ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ তুললে আমার ভাই সাংবাদিক জীবন পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর সদর থানা থেকে আরো দুই ভ্যান পুলিশ এসে আমার দুই ভাইকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। আমরা আটকাতে চাইলে পুলিশ আমাদের মারপিট করে। গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেলে আমাদের থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।

সাংবাদিক জীবনকে নির্যাতন ও তার কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, এসআই রকিবুল হাসানের সাথে কথা বলেন। তবে সাংবাদিক জীবনের সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেন এসআই রকিবুল হাসান।

এদিকে, সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে ইয়াবা বিক্রির মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এনিয়ে প্রতিবাদ সভা ও পরে সদর থানার সামনে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এসময় বক্তারা বলেন, জীবন সিগারেটই খায় না। তার ওপর তোলা হয়েছে মিথ্যা মাদক বিক্রির অভিযোগ। তাই তারা অবিলম্বে সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক ও এসআই রকিবুল হাসানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এসময় জেলা পুলিশের ইফতার এবং পুলিশের সব সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার বৃহত্তর কর্মসূচী নেয়ার কথা রয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক।

Leave a Reply

Top