চেয়ার ঠিক থাকলেও কাজ করতে পারছেন না মেয়র – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > অর্থনীতি > চেয়ার ঠিক থাকলেও কাজ করতে পারছেন না মেয়র

চেয়ার ঠিক থাকলেও কাজ করতে পারছেন না মেয়র

দায়িত্ব নেওয়ার ২ বছর ১ মাসের মাথায় সাময়িক বরখাস্ত হন। নাশকতার মামলায় ২৮ দিন জেল খাটেন। এরপর আইনি লড়াইয়ে জিতে চেয়ার ফিরে পান। তিনি হলেন খুলনার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি। কিন্তু ক্ষমতা ফিরে পেলেও রাজনৈতিক ও আর্থিক চাপে তিনি এখন কোণঠাসা। গত সাড়ে তিন বছরে তিনি নগরের উন্নয়নে তেমন কিছুই করতে পারেননি।

নগর ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতগুলোর বেশির ভাগই স্থায়ী-অস্থায়ী ব্যবসায়ী এবং নির্মাণসামগ্রীর দখলে চলে গেছে। দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে হাঁটার জায়গা। একটু বৃষ্টিতেই সড়ক তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ে পানি। যেখানে-সেখানে আবর্জনার স্তূপ। সঙ্গে যানজট তো আছেই। পিটিআই মোড়, নিরালা মোড়, ফারাজীপাড়া মোড়, নতুন বাজার, তেঁতুলতলা মোড়, কদমতলা, হোটেল সিটি ইনের বিপরীত পাশে ও জিলা স্কুলের সামনে বর্জ্য পড়ে থাকে সারা দিন। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটির নিচে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখতে দেখা যায়। এসব এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, খুলনা শহরে জলাবদ্ধতা অনেক পুরোনো সমস্যা। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত শহর খুলনা। অনেক পুকুর ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। এখানকার নালাগুলো তুলনামূলক ছোট ও সেকেলে। বৃষ্টির সময় যদি নদীতে জোয়ার থাকে, তখন বৃষ্টির পানি অপসারিত হতে একটু সময় লাগে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খুলনা মহানগরে ১ হাজার ১৬৬ কিলোমিটার নালা রয়েছে। এসব নালার বর্জ্য ও পানি নগরের সীমান্তবর্তী ৩৪টি খালে গিয়ে পড়ে। সেখান থেকে পানি চলে যায় নদীতে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম এই খালগুলোর ২৫টিতেই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, বাঁধ ও পাটা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পলি পড়ে ও কচুরিপানার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এসব খাল। এ কারণে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা মারাত্মক বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পিটিআই মোড়, জিলা স্কুল, হোটেল সিটি ইনের বিপরীতে, নিরালা মোড়সহ কিছু জায়গায় জমি না পাওয়ায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) তৈরি সম্ভব হচ্ছে না। এগুলো তৈরি হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। আর রাতে বর্জ্য অপসারণের কাজ কিছুটা শুরু হয়েছে।

উন্নয়ন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে মেয়র বলেন, সাড়ে তিন বছরে কোনো সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি থেকে পাওয়া থোক বরাদ্দও প্রতিবছর কমছে। সর্বশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গিয়েছিল।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্প দাখিল করা হলেও একটিও মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেনি। চলতি অর্থবছরেও অনুমোদনের জন্য চারটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছিল। এগুলোরও অনুমোদন মেলেনি। বর্তমানে সিটি করপোরেশনে সরকারি অর্থায়নে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি চালু আছে। চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটি শেষ হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সম্পাদক কুদরত ই খুদা বলেন, একটি প্রকল্প জমা দেওয়ার পর তা পাস করাতে বিভিন্ন দপ্তরে জোর তদবির করতে হয়। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই প্রকল্পগুলো অনুমোদিত হয়নি। তা ছাড়া সরকারের সঙ্গে মেয়রের সম্পর্ক ভালো না থাকাও একটা কারণ।

নাগরিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা যা বলেন

গত প্রায় চার বছরে নগরে দৃশ্যমান উন্নয়ন না থাকায় ও নতুন কোনো প্রকল্পের অনুমোদন করাতে না পারায় মেয়রের ওপর অনেকটাই ক্ষুব্ধ নাগরিক নেতা ও বিশিষ্টজনেরা। শুধু রাজনৈতিক কারণেই মেয়র কাজ করতে পারছেন না, এমনটা মানতে নারাজ তাঁরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, রাজনৈতিক চাপের কারণে খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান অনেকটা নিষ্ক্রিয়। সিটি করপোরেশনে পারিষদদের মধ্যে বড় অংশটি সরকারের বাইরে থাকা দলের। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুকূল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

তৎকালীন খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত আলী বলেন, এটা ঠিক, রাজনৈতিক কারণে চাইলেও মেয়র অনেক কিছু করতে পারছেন না। তাঁর কাজ বর্তমানে অনেকটা গতানুগতিক।

সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে যে রকম উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। আমার সময়ের কিছু সরকারি ও দাতা সংস্থার প্রকল্প চলছে। সেগুলোর গুণগত মান ভালো না। এ কারণে নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন দিতে আগ্রহী হচ্ছে না মন্ত্রণালয়।’

এসব ব্যাপারে মনিরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনেক কাজ হয়েছে। এখনই সব কাজের মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া ধারাবাহিকতা না থাকলে অনেক কিছু থমকে যায়।

সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অনেক সিদ্ধান্ত মেয়র নিজের মতো করেই নেন। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় থাকে ধীরগতি। বর্তমানে তিনি খুব হিসাব-নিকাশ করেই চলছেন। একদিকে দল, অন্যদিকে মেয়র পদে নতুন কোনো ঝামেলায় না জড়াতে তিনি সদা সতর্ক। এ জন্য সিটি করোপরেশনে বিভিন্ন সময় সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের টেন্ডারবাজি ঠেকাতে তিনি শক্ত ভূমিকা নিতে পারেন না। এ ছাড়া সরকারদলীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করে মেয়র মনিরুজ্জামান বলেন, নগরের উন্নয়নে প্রধান অন্তরায় এখন অর্থসংকট। নতুন প্রকল্পের যেমন অনুমোদন মিলছে না, তেমনি বিশেষ বরাদ্দও পাওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বৈষম্যই এর কারণ।

বরখাস্ত, পরে পুনর্বহাল

২০১৩ সালের ১৫ জুন সিটি নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের ব্যানারে ৬০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পান। এর দুই বছর ১ মাস ৮ দিনের মাথায় বরখাস্ত হন তিনি। ইজিবাইকে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলাসহ দুই মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করায় ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাঁকে। এরপর সর্বোচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে বিজয়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর মেয়রের চেয়ার ফিরে পান তিনি।

Leave a Reply

Top