চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কটি মরনফাঁদে পরিণত – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > প্রচ্ছদ > চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কটি মরনফাঁদে পরিণত

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কটি মরনফাঁদে পরিণত

স্টাফ রিপোর্টারঃ চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের প্রধান সড়কটি মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। ৩ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তাটি খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন এ সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন ও কয়েকলাখ মানুষের দূরদশা চরমে পৌছেছে। জরুরী মেরামতের নামে ইট বিছিয়ে যা করা হচ্ছে তা কোন কাজেই আসছে না। একদিন যেতে না যেতেই আবার একই অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে, সড়ক বিভাগ বলছে ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা অংশে ৬৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার ১৮.২৫ কিলোমিটার কাজের টেন্ডার শেষ হয়েছে। শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সিমেন্টের ঢালাই দিয়ে তৈরী রাস্তাটি ভেঙ্গে ১৯৯৫-৯৬ সালে চুয়াডাঙ্গার থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত রাস্তাটি পূনঃনির্মান করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পথচারীরা বেশ আরাম আয়েশেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করত। পরে ২০১২ সালে মূল শহরের আড়াই কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করা হয়। দু’পাশে তিন ফুট করে মোট ৬ ফুট চওড়া করা হয় রাস্তাটি। এই রাস্তা প্রশস্তকরনের কিছুদিনের মধ্যে বৃদ্ধি করা অংশটুকু দেবে যায়। সেই সময় এই রাস্তা নির্মানকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চরম নিন্মমানের কাজের অভিযোগ উঠে। তারা যেনযেনভাবে কাজ করে বিল তুলে নেয়। তারপরও ঠিকাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এরপর থেকে গত ৩-৪ বছর জোড়াতালি দিয়ে সড়কে যান চলাচল ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জেলার ৫টি আঞ্চলিক মহাসড়কসহ সড়ক ও জনপথের রয়েছে ১৪৫ কিলোমিটার পাঁকা সড়ক। ৩০ ভাগ সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে মেহেরপুর-ঢাকা ভায়া চুয়াডাঙ্গা রাস্তাটির জেলা শহরের আন্তজেলা বাসটার্মিনাল থেকে বড় বাজার শহীদ হাসান চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক সম্পূন্ন বিনষ্ট হয়ে গেছে। এই রাস্তায় সর্বত্র ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টির হয়েছে। এতে সড়কটি মরনফাঁদে পরিণত হয়েছে। একদিকে যেমন যানবাহন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটছে দূঘটনা। সড়ক বলতে যা বোঝায় তার কোনটি নেই। কাদা পানিতে রাস্তা একাকার থাকায়, অনেকেই অজান্তে ডুবো গর্তে পড়ে নাকানি চুবানি খাচ্ছে।

পিকআপ চালক লিটন শেঠ বলেন, প্রধান সড়কটির এমন করুন হাল আগে কখনও হয়নি। হেটেও যাওয়া যায় না, আবার গাড়ি চালিয়েও যাওয়া যায়না। ২-৩ বছর ধরে শুনে আসছি রাস্তাটি নতুনরুপে তৈরী হবে। কিন্তু কোন আলামত দেখতে পাচ্ছিনা।

এই সড়কে প্রায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করছে ঝুকি নিয়ে। গত দ্ইু বছর ধরে রাস্তাটি ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় থাকলেও মেরামতের কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা । সড়কটির বেহাল দশার কারনে ছোট ছোট যানবাহন এই পথ ব্যবহার না করে পাড়া-মহল্লার রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে।

সওজের কার্য সহকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির বেহাল দশার কারনে অধিকাংশ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মিদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন বড় বড় গর্তে ইট-বালু দিয়ে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা চলছে।

চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জনগনের দূভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ঝিনাইদহ-মুজিবনগর ভায়া চুয়াডাঙ্গা সড়ক নির্মানের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ২০১২ সালে। চুয়াডাঙ্গা অংশে ২৭.৩ কিলোমিটারের মধ্যে ২০১৪ সালে ৯ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে বাকী অংশে ৬৭ কোটি ৬১ লাখ টাকার ১৮.২৫ কিলোমিটার রাস্তার টেন্ডার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছর ১৯ জুন এই রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী শুস্ক মৌসুমে কাজ শুরু করা হবে। শহরের মধ্যে ২.২ কিলোমিটার হবে ৪ লেন অর্থাৎ ফুটপাত সহ ৫৪ ফুট প্রসস্ত । আর বাকী রাস্তাটি হবে ফুটপাতসহ ৩০ ফুট প্রসস্ত। রাস্তাটি নির্মানে ঠিকাদার নিযুক্ত হয়েছেন আরএবি-আরসি প্রাঃ লিঃ, রানা বিল্ডার্স ও জহুরুল ইসলাম।

Leave a Reply

Top