You are here
Home > জাতীয় > চিড়িয়াখানায় চার অতিথি

চিড়িয়াখানায় চার অতিথি

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার বদ্ধ পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলেছে চার প্রজাতির চারটি শাবক। গত এক মাসে তারা যুক্ত হয়েছে এখানকার প্রাণিজগতে। তাদের ছোটাছুটিতে নিজস্ব পরিবারগুলোর পাশাপাশি প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে চিড়িয়াখানাতেও।

এদের মধ্যে ৮ জুলাই জন্ম নেয় একটি ইম্পালাশাবক। ২৫ জুলাই মায়া হরিণের সংসার আলো করে আসে একটি শাবক। এক দিন পার করে ২৭ জুলাই গাধাদের পরিবারেও আসে সন্তান জন্মের আনন্দ। আর ২৮ জুলাই একটি কমন ইল্যান্ড শাবক যুক্ত হয় ইল্যান্ড পরিবারে।

গতকাল বুধবার গিয়ে দেখা গেল, ভিন্ন গোত্র, বর্ণ আর আকৃতির হলেও এদের স্বভাবে একটি মিল আছে। এরা কেউ–ই মায়ের সঙ্গ ছাড়তে রাজি নয়। দর্শনার্থীরা উপভোগ করছে এদের মায়াবী কর্মকাণ্ড।

এদের বেশ সাবধানে পরিচর্যার পরামর্শ দিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মনিরুল খান। তিনি বলেন, তিন মাস বয়স পর্যন্ত এদের সব সংক্রামক জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মায়ের দুধ যেন খেতে পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

ইম্পালা: লালচে বাদামি রঙের এই প্রাণীর লেজটি বড় নয়, তবে নাড়ায় অবিরত। মুখ গুঁজে মায়ের পিছু পিছু চলা ওর স্বভাব। আগন্তুক (দর্শনার্থী) দেখলে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে যায়।

ইম্পালার বাচ্চাটি ছেলে না মেয়ে, সেটি এখনো নিশ্চিত নন ইম্পালাদের তত্ত্বাবধায়ক নূর আলম। তিনি বলেন, মা বাচ্চাকে বেশ আগলে রাখে। তবে এই বেষ্টনীতে একটি মেয়ে থাকায় ছেলে ইম্পালা দুটি মারামারি করে সারা দিন। আর এই সুযোগে বাচ্চাটি মায়ের কাছেই থাকে।

মায়া হরিণ: চিড়িয়াখানায় মায়া হরিণের আবাসস্থলে প্রচুর ঘাস। শরীর দুলিয়ে কচি সবুজ ঘাস মুখে নিতে দেখা গেল শাবকটিকে। দিন ১৫ বয়স হলেও তার হাবভাব বড়দের মতো।

 গতকাল দুপুরে মায়া হরিণের বেষ্টনীর সামনে দেখা গেল, মা ইটের ছোট ঘরে চুপটি করে বসে আছে। বাবা একেবারে বেষ্টনীর সামনে বসে আছে। বাবার নজর ছেলের দিকে। উৎসুক আগন্তুকের সংখ্যা বেড়ে গেলে মা আস্তানার আয়েশ ছেড়ে বেরিয়ে আসে সন্তানের কাছে। শরীরজুড়ে থাকা খয়েরি লোম উজ্জ্বল হওয়ায় মায়া হরিণ বেশ নজর কাড়ে। সবুজ ঘাসের ওপর ওর ছোটাছুটি দর্শকদের আনন্দ দেয়।

 তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এদের সামনের পা দুটো পেছনের পার চেয়ে খাটো। দিনে কম আলোতে বিশ্রাম নেয়, আর রাতের বেলা সজাগ থাকে।

গাধাশাবক: চিড়িয়াখানায় থাকা ১১টি গাধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি ছেলে গাধাশাবক। ওর শরীরটা এখনো দুর্বল। মাত্র ১৩ দিন বয়স। ডান পা সামান্য বাঁকা। মায়ের গা ঘেঁষে থাকার চেষ্টা করে শাবকটি।

‘অবশ্য একা থাকলে সে শান্ত থাকে। মাকে কাছে পেলে চঞ্চল হয়ে ওঠে’—এ তথ্য জানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক আবদুল হামিদ বললেন, ঘাস, ভুসি, ছোলা খেয়ে থাকে ওরা। জন্ম থেকে ওর পায়ে সমস্যা। প্রথম দিকে বাচ্চাটি বেশ কম হাঁটত। এখন ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। গাধার বৈজ্ঞানিক নাম ইক্যুয়াস আফ্রিকানাস এসিনাস।

কমন ইল্যান্ড: বেষ্টনীর ভেতর থাকা কমন ইল্যান্ডগুলোকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ সুখী পরিবার। মা-বাবা, একটি বড় মেয়ে আর একটি নবজাতক। তবে ইল্যান্ড-ছেলের সঙ্গে মেয়েদের পার্থক্য ধরতে একটু সময় লাগবে। এদের শিং দীর্ঘ ও চিকন। দেখে মনে হবে, ওরা বেশ রাগী। আসলে বেশ শান্ত। ইম্পালার মতো লাফিয়ে চলে না। কিছু সময় পরপর মায়ের কাছ, কিছুক্ষণ বাবা কিংবা বোনটির কাছে থাকে সে। দুধ খাওয়ার সময় জিব দিয়ে সন্তানের শরীর পরিষ্কার করে দেয় মা। কমন ইল্যান্ডরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে না।

ইম্পালাঃ হরিণগোত্রীয় প্রাণী। তৃণভোজী। এক লাফে ৩৩ ফুট পর্যন্ত যেতে পারে

গাধাঃ এরা ঘোড়া প্রজাতিভুক্ত। এশিয়া ও আফ্রিকায় দেখা যায়

মায়া হরিণঃ  খাটো, লাজুক সদস্য। ভয় পেলে ঘেউ ঘেউ করে বলে বার্কিং ডিয়ারও বলে

কমন ইল্যান্ডঃ চিকন দীর্ঘ শিং। দেখে মনে হবে বেশ রাগী। আসলে বেশ শান্ত।

Leave a Reply

Top