চালের দাম বেড়েছে তিন টাকা সাত দিনে – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > অর্থনীতি > চালের দাম বেড়েছে তিন টাকা সাত দিনে

চালের দাম বেড়েছে তিন টাকা সাত দিনে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারি-বেসরকারিভাবে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম চালের মোকাম কুষ্টিয়ায় সব ধরনের চালের দাম গত এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি তিন টাকা বেড়েছে।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে দাম আরও অন্তত এক টাকা করে বাড়তে পারে এবং ঈদের পরও দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এমন শঙ্কার কথাও শোনালেন মিলমালিকেরা। তাঁরা বলেন, চিকন জাতের ধানের সংকট ও ধানের দাম দফায় দফায় বেড়ে যাওয়ায় চালের বাজারে প্রভাব পড়েছে।

চালকলের মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯ আগস্ট খাজানগর এলাকার চালের মোকামে প্রতি কেজি মিনিকেট ৫০ টাকা, বাসমতি ৬২ ও আটাশ চাল ৪৬ টাকা দামে বিক্রি হয়েছিল। এই শনিবারে মিনিকেট ৫২ টাকা, বাসমতি ৬৪ ও আটাশ ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, সাত দিনের ব্যবধানে এই তিন ধরনের চালে কেজিপ্রতি ২ টাকা করে দাম বেড়েছে। অথচ মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর গতকাল রোববার মিনিকেট চাল কেজিপ্রতি আরও ১ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ৫৩ টাকায়।

চালকলের মালিকেরা জানান, বন্যায় উত্তরাঞ্চলে ধান ডুবে গেছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী চিকন চালের ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু পাওয়া গেলেও আবার দাম বেশি, পরিবহন খরচও বেড়েছে। সে জন্য চালের ‘একটু ক্রাইসিস’ চলছে এবং দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

আলাপকালে চালকলের মালিকেরা জানান, তিন মাস আগে ৯০০ টাকা মণ দরে যে ধান পাওয়া যেত, এখন তা ১ হাজার ২৫৯ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। এই ধান মিলে আনতে ভাড়া লাগছে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এক মণ ধান থেকে ২৬ কেজি পর্যন্ত চাল হচ্ছে। সব মিলিয়ে চালের উৎপাদন খরচ পড়ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকা কেজি।

জানতে চাইলে গতকাল রোববার বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ লাইভ নিউজ বিডিকে বলেন, ‘বাজারে চিকন বা সরু চালের ধান নেই। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম প্রতিদিন বাড়ছে। নতুন ধান উঠতে আরও চার মাস বাকি। তাই চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এই সমিতির কুষ্টিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, সাধারণত বগুড়া, জয়পুরহাট, শেরপুরসহ উত্তরের জেলাগুলোয় বিনা-৭ ও বিনা-৫ জাতের ধান প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয়। কিন্তু বন্যায় এসব জেলায় ধান ডুবে যাওয়ায় মোকামে সরবরাহ কমে গেছে। আর গুদামে যে ধান মজুত আছে, তা কিছুদিন পর শেষ হয়ে যাবে।

জয়নাল আবেদিন আরও বলেন, রোববার খাজানগরে বেশির ভাগ মিলমালিক চাল সরবরাহের কোনো অর্ডার বা আদেশ নেননি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা এখন কোরবানির গরু কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত। তাই চাল উৎপাদন হচ্ছে না।

চালকলের মালিক লিয়াকত হোসেন বলেন, ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সরু চালের কদর রয়েছে। কিন্তু চিকন জাতের ধানের সংকট তীব্র। তাই দফায় দফায় এই ধানের দাম বাড়ছে। ফলে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী।

কুষ্টিয়ার খাজানগরে প্রায় ৩৫০টি চালকল রয়েছে। এর মধ্যে অটোমেটিক চালকল ৩১টি। বাকিগুলো হাসকিং মিল। তবে বর্তমানে হাসকিং মিল চালু আছে ১৫০টি।

এদিকে কুষ্টিয়ার খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, মোকামে কোনো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। অনেক মিলমালিক ধান কিনে মজুত করে রেখেছেন। এখন ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নিয়মিত তদারক হলে চালের দাম এত বাড়ত না।

বাজার নিয়ন্ত্রণে স্বয়ং সরকার চাল আমদানি শুরু করলেও এর দাম বাড়ছে কেন জানতে চাইলে মিলমালিকেরা জবাবে বলেন, সরকার বেশি আনছে মোটা জাতের চাল। সেখানে সরু চালের পরিমাণ কম। আর আমদানি করা সরু জাতের চাল দেশের ভোক্তারা সেভাবে পছন্দ করেন না। তাঁরা দেশীয় চালের ওপরই নির্ভর করছেন।

ফোর স্টার রাইস মিলের মালিক মফিজ উদ্দিন বলেন, ধানের অভাবে তো মিল চালু রাখা যাচ্ছে না। মোকামে একপ্রকার অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমন মৌসুম শেষ হলে দেশীয় চালের দাম কিছুটা কমলেও কমতে পারে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান লাইভ নিউজ বিডিকে বলেন, দাম বাড়ার যৌক্তিকতা আছে কি না, সেই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Top