You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > গ্যারেজ থেকে দুটি মার্সিডিজ গাড়ি জব্দ

গ্যারেজ থেকে দুটি মার্সিডিজ গাড়ি জব্দ

স্টাফ রিপোর্টারঃ চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে বিলাসবহুল দুটি গাড়ি জব্দ করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার রাতে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে এই গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়।

এই গাড়ি দুটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের। শুল্ক-করসহ গাড়ি দুটির আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। জব্দ করার পর গাড়ি দুটি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক বছরে চট্টগ্রাম থেকে মোট নয়টি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করলেন শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যটকদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ‘কারনেট দ্য প্যাসেজ’-এর আওতায় যুক্তরাজ্য থেকে একটি মার্সিডিজ কার নিয়ে আসেন মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এই গাড়ি খালাস নেন তিনি। গাড়িটি নির্ধারিত সময়ের পর ফেরত নেওয়ার শর্তে কাস্টম হাউস খালাসের ছাড়পত্র দিয়েছিল। কিন্তু আশরাফুল ইসলাম ফেরত না নিয়ে তা বিক্রি করে দেন। নিয়মানুযায়ী হস্তান্তর করতে হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে গাড়ির শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। প্রায় ২৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা মূল্যের এই গাড়ির শুল্ক-কর দিতে হতো ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। নিয়ম ভেঙে গাড়ি হস্তান্তর বা বিক্রি করায় সরকার এই রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রুপালি রঙের কারটির সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি ৩ হাজার ১৯৯। এটির নির্মাণ সাল ২০০২।

মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের অপর জিপটি ২০১১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে আমদানি করেন মনসুর আলী। তিনিও গাড়িটি খালাস না করে বিক্রি করে দেন। কালো রঙের এই জিপ গাড়ির সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি ৩ হাজার ৭২৪। এটির নির্মাণ সাল ২০০২। প্রায় ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়ি থেকে দুই কোটি দুই লাখ টাকা শুল্ক-কর পায়নি।

মুরাদপুরে ‘কার কোল্ড অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার’ গ্যারেজ থেকে এই গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়। গ্যারেজের মালিক মো. জামসেদের উদ্ধৃতি দিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, গাড়ি দুটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য রেখে যায় বিশ্বজিৎ ও যুবরাজ নামের দুই ব্যক্তি।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তারেক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, গাড়ি দুটি ফেরত না নিয়ে তাঁরা বিশ্বজিৎ ও যুবরাজ নামের দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। ফেরত না নেওয়ায় গাড়ি দুটি থেকে সরকার রাজস্ব পায়নি। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গাড়ি দুটি উদ্ধারের সময় দুটি নম্বরপ্লেট সংযুক্ত ছিল। তবে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এ দুটি নম্বরই ভুয়া।

জব্দ হওয়া গাড়ি সাধারণত নিলামে তুলে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কাস্টম হাউস গাড়ি দুটি নিলামে তুলে বিক্রি করবে বলে কর্মকর্তারা জানান।

Leave a Reply

Top