You are here
Home > জাতীয় > গুরুদাসপুরে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন

গুরুদাসপুরে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন

এস,এম ইসাহক আলী রাজু,নাটোর প্রতিনিধিঃ-
নাটোরের গুরুদাসপুরে শাহিন ইসলাম (২৬) নামে এক যুবককে গাছের সাথে বেঁধে শরীরিক ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি যোগসাজশ করে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে গাছের সাথে নাইলনের রশি দিয়ে পিছমোড়া করে বেঁধে প্রায় চার ঘন্টা ধরে নির্যাতন চালায়।
গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কানু মোল্লাার বটতলা মোড়ে প্রকাশ্যে ওই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী আব্দুল মান্নান ও মাহবুব নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ওই নির্যাতন চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির বাড়ি একই ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শি কয়েক জন জানান, ঈদের দিন দিবাগত রাতে দুই তিনটি বাড়ি থেকে মুঠোফোনসহ নগদ টাকা চুরি যায়। ভোর হতেই চুরির ঘটনা এলাকায় প্রচার হয়ে পড়ে। সন্দেহ বসত: আব্দুল মান্নান ও মাহবুব তার লোকজনকে নিয়ে শাহিনকে তার বাড়ি থেকে ধরে আনে। এক পর্যায়ে কানু মোল্লার বটতলার মোড়ে তাকে একটি গাছের সাথে পিছমোড়া করে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। তবে চুরি যাওয়া মুঠোফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করতে পারেনি নির্যাতনকারীরা। পরে স্থানীয় ৭ নম্বর ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনের সহায়তায় শাহিনকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান দাবী করেন, শাহিন এলাকার চিহ্নিত চোর ও মাদক সেবি। চুরি যাওয়া মুঠোফোন ও টাকা উদ্ধার করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গাছের সাথে বেঁধে রাখা হলেও নির্যাতন করা হয়নি। পরে মেম্ববারের সহায়তায় তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান শওকতরানা লাবু জানান, শাহিন একজন মাদক সেবী। মাদকের টাকা যোগান দিতে গিয়ে চুরির সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তবে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করা হলে তা ঠিক হয়নি।।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্Í কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, শাহিনকে মাদক মামলায় ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম দ-াদেশ দেন। তবে শাহিনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি তার জানা নেই। এব্যাপারে কেউ অভিযোগও করেননি।্
শাহিন দাবী করেন, চুরির সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। সন্দেহজনক ভাবে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়েছে। তার পরিবারে কয়েক জন সদস্য অভিযোগ করেন, শাহিন অন্যায় করে থাকলে তাকে পুলিশে দেওয়া হোক। কিন্তু প্রকাশ্যে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করবে-এটা ঠিক নয়। গরিব বলে তাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। নির্যাতনকারিরা নিজেদের রক্ষা করতে মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে।

Leave a Reply

Top