You are here
Home > জাতীয় > গাড়ির জাল কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ দিতেন তাঁরা

গাড়ির জাল কাগজপত্রের পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ দিতেন তাঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবৈধ গাড়ির জন্য নম্বর প্লেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ইন্স্যুরেন্সসহ যাবতীয় জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরবরাহ করে আসছিল একটি প্রতারকচক্র। এই কাগজপত্র এত সূক্ষ্মভাবে তৈরি করা হতো যে খালি চোখে দেখে কখনোই ধরা সম্ভব নয়। প্রায় ১০ বছর ধরে চক্রটি সারা দেশে প্রতারণা করে আসছিল। বিভিন্ন স্থানে তাদের নিয়োগ করা লোকও ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব- ১০)।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র‍্যাব ১০-এর অধিনায়ক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শাহাবুদ্দিন খান।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, এমনকি মেডিকেল সার্টিফিকেটও জাল করে সারা দেশে সরবরাহ করত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১০-এর একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়ায় অভিযান চালায় এবং মো. জাকির হোসেন বাবুলকে (৩২) গ্রেপ্তার করে।

পরে বাবুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর সদর উপজেলার মীরেরবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাসুদ হাওলাদার (৩৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ট্রেনিং সেন্টারের জাল সার্টিফিকেট, নকল ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নকল ডিজিটাল নম্বর প্লেট, গাড়ির নকল ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, নকল রেভিনিউ স্ট্যাম্প এবং এসব তৈরির যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

ডিআইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান আরো জানান, জাকির হোসেন ওরফে বাবুল ২০০৮ সালে ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। মো. মাসুদ ১৯৯৫ সালে নিউ পল্টন লাইন হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। জাকির ২০০৩ সাল থেকে নীলক্ষেত এলাকায় একটি দোকানে সাইনবোর্ড, ব্যানার, সিল ও কম্পিউটার কম্পোজের আড়ালে এই জালিয়াতির ব্যবসা করে আসছিলেন। তাঁর সহযোগী হিসেবে ২০১৬ সালে মাসুদ যোগ দেন।

প্রায় আট মাস আগে নীলক্ষেত ব্যবসায়ী সমিতি বহুতল ভবন তৈরির কারণে জাকিরের দোকানটি ভেঙে দেয়। এর পর থেকে জাকির ডেমরা এলাকায় নিজের বাসায় এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

আটকদের বরাত দিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, জাল সার্টিফিকেট ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, নকল ডিজিটাল লাইসেন্স ৫০০ টাকা এবং গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট দেড় হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রয় করে আসছিলেন।

বিআরটিএর নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নকল ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও লাইসেন্সের বেশির ভাগই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবহার করা হয়। আর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ট্রেনিং সেন্টারের নকল সার্টিফিকেট দেশ-বিদেশে চাকরির জন্য আবেদনের জন্যও ব্যবহার করা হতো।

Leave a Reply

Top