You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > গাজীপুরে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী বাঁধনের মৃত্যুটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যাকান্ড ?

গাজীপুরে ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী বাঁধনের মৃত্যুটি আত্মহত্যা, নাকি হত্যাকান্ড ?

মোঃ নাজিম উদ্দিন ঃ

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা বরমী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড়ের গাড়ারণ খাসপাড়া গ্রামের স্কুল ছাত্রী আন্নী আক্তার বাঁধন (১৫) এর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।মৃত্যুটি আত্মহত্যা, নাকি এর আড়ালে অন্য কিছু রয়েছে? এ নিয়ে চলছে নানা রকম গুঞ্জন। এ ঘটনার অধিক তদন্তের দাবী এলাকার সকলের। গলায় কাপড় পেঁচানো ঝুলন্ত লাশটির দুটি পা খাটের উপর লেগে আছে, যেন সে সাধারণ মানুষের মতো দাড়িয়ে আছে! একটি পা আবার বাঁকানো এমন ভাবে যে- লাশটির পায়ের পাতা দেখা যাচ্ছে! খাটের উপরের বিছানাটা এলোমেলো হয়ে আছে! নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া কোনো মেয়ের বিছানা কখনোই এলোমেলো থাকার কথা নয়।বিশেষ করে এ যুগের মেয়েদের তো নয়ই! খুব সঙ্গত কারণেই খুব পরিপাটি আর গোছানো থাকবে। বিছানার দিকে তাকালেই বুঝা যায়- খুব ধস্তাধস্তি হয়েছে এখানে! সাগরে ডুবতে থাকা মানুষও নাকি সামান্য খড়কুটো আঁকড়ে ধরেও বাঁচতে চায়! মেয়েটিকে গলাচাপা দেয়ার সময়- সে নিশ্চয়ই বিছানা আঁকড়ে বাচার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে! এলোমেলো বিছানাটা- সেই ভয়াবহ সময়েরই সাক্ষ্য দিচ্ছে।আন্নী আক্তার বাঁধন নামের সেই ১৫ বছরের কিশোরীর শ্রীপুর উপজেলার গাড়ারণ এলাকায় নিজ বাসা থেকে  পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটি পরিস্কার ভাবে আত্মহত্যা।মানুষের মৃত্যু নিয়ে এমন হেলাফেলা করা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে তথ্য পেলাম ও দেখলাম এটি কোনো আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিছানায় পা লেগে থাকার ছবিটি খেয়াল করলেই সহজে বোঝা যায়, এভাবে বিছানায় দাড়িয়ে থেকে আত্মহত্যা সম্ভব নয়। ফাঁস নেয়ার দড়িটি খেয়াল করলে দেখা যায় এটি মেয়েটির প্লাজু অথবা উড়না জাতীয় কিছু! এটি মেয়েটির শরীরের ভার বহন করতে পারেনি বলেই বিছানায় পা লেগে আছে। অর্থাৎ এটি আত্মহত্যা করার মতো উপযুক্ত নয়। যেটা দিয়ে শরীরের ভার বহন সম্ভব হচ্ছে না- সেটা দিয়ে আত্মহত্যা সম্ভব নয়। মেয়েটি আত্মহত্যা করলে রশি বা শাড়ী বেছে নিতো। তাছাড়া ওড়নার রশিটি-ডান কানের পাশ দিয়ে ঝুলছে! মাথাটি একপাশে কাত হয়ে আছে। এভাবে একপাশে ঝুলে আত্মহত্যা সম্ভব? মেয়েটির মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মানা সম্ভব নয়। সুরতহাল প্রতিবেদন ছাড়াই শুধু তদন্তেই অপরাধী বের করে আনা সম্ভব-অবশ্য যদি পুলিশ ও সাংবাদিক সমাজের সদিচ্ছার অভাব না থাকে!জানতে পারলাম মেয়েটির মা দেশে এসেছে- সে নিশ্চয়ই মামলা করবে। সন্তানের ক্রাইসিস নাকি মা সবচেয়ে বেশি জানেন, আর একমাত্র সন্তান হলেতো অনেক কিছু জানার কথা। তিনি নিশ্চয়ই জানেন- কারা তার সন্তানের বাগানটি তছনছ করেছে! তার বুকটা খালি করেছে! আমরা চাই- সত্য উন্মোচিত হোক। প্রশাসনের অবজ্ঞা অবহেলার কারণে যেন- অপরাধ ধামাচাপা না পড়ে। খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এদেশে বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক।

Leave a Reply

Top