You are here
Home > জাতীয় > গাজীপুরে যানজট ভোগান্তি কমিয়ে এনেছে ট্রাফিক সহকারীরা

গাজীপুরে যানজট ভোগান্তি কমিয়ে এনেছে ট্রাফিক সহকারীরা

  পগর মাহমুদ সাগর,গাজীপুর ঃ 

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে টঙ্গী ব্রিজ থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজটে ভোগান্তির শিকার হননি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। চান্দনা চৌরাস্তা থেকে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর পর্যন্ত সড়কেও যানজটে নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। সামান্য বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। যানজট ১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। আবার ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে গাড়ির চাপ বেড়ে গেলে গাজীপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়।


মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে গাজীপুরের যানজট নিরসনে, জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম  এর নিজস্ব উদ্যোগে জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত শুরুতে প্রায় ৩০০ ‘ট্রাফিক সহকারী’ নিয়োগ দিয়েছিলেন। নির্বাচনে তিনি প্রতিশ্রতিও দিয়েছিলেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যানজট নিরসন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। এখন তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের নামে মাঠে নামা ‘ট্রাফিক সহকারীর’ সংখ্যা এখন ২৬৮ জন। তারা এখন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন অাওতাধিন,তাদের নাম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ট্রাফিক সহকারী। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে খানা-খন্দ, অবৈধ পার্কিং, সড়ক দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করার কারণে যানজট গাজীপুরবাসীর নিত্যসঙ্গী। তাছাড়া জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলমান বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অংশ হিসেবে বর্ষার পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সড়কে ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ছয় মাস আগে। দুই পাশে খুঁড়ে নালা তৈরি করার কারণে মহাসড়ক এখন কার্যত দুই লেনে পরিণত হয়েছে। ড্রেনেজ নির্মাণের পাশাপাশি জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বিআরটি প্রজেক্টের খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। তবে এই প্রকল্পের কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। এ কারণে গাজীপুরে যানজটের তীব্রতা বাড়ার কথা থাকলেও বাড়তে দেয়নি সিটি কর্পোরেশন ট্রাফিক নামে মাঠে নামা ট্রাফিক সহকারীরা ।


গাজীপুরের চৌরাস্তা ও এর আশপাশের এলাকায় দেড় মাস আগে ঘুরে দেখা গেছে, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ঢাকার দিকে যেতে মহাসড়কের দুই পাশ খুঁড়ে নালা তৈরি করা হয়েছে। এসব নালায় পানি জমে সড়কে উপচে পড়ছে। এসব নালায় স্থাপন করা হয়েছে অসংখ্য অস্থায়ী বাঁশের সাকো। সড়কের দু’পাশে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এ কারণে প্রতিনিয়তই তীব্র যানজট লেগেই আছে। এই যানজট গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই যানজটের প্রভাব পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা বাইপাস মহাসড়ক ও জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ময়মনসিংহগামী মহাসড়কে।


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত ‘ট্রাফিক সহকারী’ এর সমন্বয়ক ক্যাপ্টেন মোঃ আবুল হোসেন কে প্রশ্ন করা হয় যানজট ভোগান্তি কমিয়ে এনেছেন কিভাবে ? তিনি বলেন, যানজট কমিয়ে আনার কৃতিত্ব আমার না, এটা মেয়র মহোদয়ের একান্ত সহকারী ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেন ট্রাফিক সহকারীদের প্রধান সমন্বয় আলহাজ্ব মোঃ আশরাফুল আলম (রানা মোল্লা) এর । রানা স্যার আমাকে যেভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আমি আমার সহকারি ,১৩ জন সুপারভাইজার,১৩ জন সহ-সুপারভাইজার সহ সকল ট্রাফিক সহকারী মিলে সে কাজ করেছি ।যানজট কোন কোন জায়গায় হতে পারে এমন ১৪টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে,১।গাজীপুর চৌরাস্তা,২।ভোগরা বাইপাস,৩।হাড়িকেন/মালেকের বাড়ী,৪।বোর্ডবাজার,৫।বড় বাড়ী,৬।গাজীপুরা(২৭),৭।চেরাগ আলী,৮।স্টেশন রোড,৯।টঙ্গী বাজার,১০।কোনাবাড়ী,১১।শীববাড়ী(জয়দেবপুর),১২।জাজর, এবং ১৩,১৪ নগর ভবনে । রাস্তার পাসে অবৈধ পার্কিং, সড়ক দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা বন্ধ ও সরিয়ে ফেলা সহ ভ্যানে করে যারা রাস্তার পাসে দোকানপাট বসাতে চায় তাদের কে বসতে দেওয়া হচ্ছেনা ।


ক্যাপ্টেন মোঃ আবুল হোসেনের কাছে আর জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোন কোন ‘ট্রাফিক সহকারী’ কাজে বেশি মুগ্ধ ? তিনি জানান, এ কৃতিত্ব আমার সকল ট্রাফিক সহকারীর । তার পরও আমি ব্যাক্তিগত ভাবে .৫-৬ জনের প্রতি বেশি মুগ্ধ, তারা হলঃ সহ-সমন্বয়ক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সহ-সুপারভাইজার মোঃ ইমরান হোসেন, সুপারভাইজার মোঃ বাতেন, সুপারভাইজার মোঃ শফিক, সহ-সুপারভাইজার মোঃ শহিদুল ইসলাম,মোঃ খোকন মিয়া এবং ট্রাফিক সহকারী মোঃ তাহের ।
স্থানীয়রা জানান, জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে ভোগড়া বাইপাস চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট মুক্তে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বাইপাস চৌরাস্তা থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকের গাজীপুর-সিলেট মহাসড়কেও। এই মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকই বেশি চলাচল করে। এর বাইরে মহাসড়কের ওয়্যারলেস গেট এলাকা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে কড্ডা পর্যন্ত, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা ব্রিজ থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজট মুক্ত রয়েছে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের নামে মাঠে নামা ‘ট্রাফিক সহকারীর’ আর থাকছে না জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশনের অধিনে , ট্রাফিক সহকারীরা ধাপে ধাপে চলে যাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অধিনে ।

চলবে………………………।

Leave a Reply

Top