You are here
Home > প্রচ্ছদ > গত ১৫ দিনে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন

গত ১৫ দিনে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি বিলীন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। এতে ঘরবাড়ি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ। কেউবা আবার গ্রাম ছাড়ছে ভাঙ্গন-আতঙ্কে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শিবচর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৫ দিন আগে বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদী ও আড়িয়াল খাঁ নদের পানি অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর দুই দিন ধরে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে নদীপারের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে চরজানাজাত ইউনিয়নের খাসেরহাট, সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের মালেক চোকদারের কান্দি ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাওলিপাড়া গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এসব এলাকার ভাঙ্গন ঠেকাতে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সরেজমিনে গত বৃহস্পতিবার দেখা যায়, সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের মালেক চোকদারকান্দি গ্রামের মসজিদটির একাংশ আড়িয়াল খাঁ নদে ভেঙ্গে পড়েছে। পাশাপাশি এই এলাকার কয়েকটি বসতভিটা নদের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। সন্ন্যাসীরচর উচ্চবিদ্যালয় ও সন্ন্যাসীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে। চরজানাজাত ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় বাড়িঘর, ফসলি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এই এলাকার কয়েকজনকে ভাঙ্গনের আতঙ্কে গবাদিপশু ও ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের জন্য চলে যেতে দেখা গেছে। কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের কাওলিপাড়া গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। এই এলাকায় পদ্মার ঢেউয়ের আঘাতে ভাংছে নদীর পাড়। এ ছাড়া নদীভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মাদবেরচর, বন্দরখোলা, নিলখী, দত্তপাড়া, শিরউরাইল ও দক্ষিণ বহেরতলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম।

সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নের মালেক চোকদারেরকান্দি গ্রামের রহিম মিয়া বলেন, ‘এই এলাকার ১০টি বাড়ি নদের ভাঙ্গনে ভেসে গেছে। এলাকার মসজিদটি একটি অংশ আড়িয়াল খাঁ নদে ভেঙে গেছে। একটু একটু করে পাড় ভাংছে আর সর্বস্বান্ত করে ফেলছে আমাদের।’

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের কাউলিপাড়া গ্রামের নদীগর্ভে বিলীন হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত আনোয়ার চৌকিদার বলেন, ‘আমার বাড়ি ও ছয় বিঘা ফসলি জমি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। আমার পরিবার এখন সর্বস্বান্ত। আশ্রয়ের জন্য নদীর পাড়ে ছাউনি করে থাকছি।’

দক্ষিণ বহেরতলা ইউনিয়নে কলাতলা গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ের বাসিন্দা কাওসার হাওলাদার বলেন, ‘ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙ্গে যাওয়ার করণে সবাই আশ্রয়ের জন্য গ্রাম ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে। নদীতে আমার বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। ছেলেমেয়েদের বই–খাতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এখন ওদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না।’

কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাহবুব ফকির বলেন, পদ্মার ভাঙ্গনে এই ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রাম প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অন্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ ছাড়া ভাঙ্গন এলাকায় দ্রুত সাহায্যের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরান আহম্মেদ বলেন, ‘নদীর পানি কমতে থাকায় চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যেসব মানুষ নদীর ভাঙ্গনে বাড়িঘর হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ত্রাণ ও আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিরা আমাদের এখনো কোনো নামের তালিকা দেয়নি। তালিকা পাওয়ামাত্রই অসহায়দের সাহায্য দেয়া হবে।’

পাউবোর মাদারীপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থপ্রতিম সাহা বলেন, নদীভাঙ্গন প্রতিরোধে কোনো বরাদ্দ নেই। আর ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রকল্প না থাকায় ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙ্গনকবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সাংসদেরা যদি ভাঙ্গন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট মহলের মাধ্যমে আবেদন করেন, তাহলে প্রকল্প বরাদ্দ হলেই ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Top