You are here
Home > প্রচ্ছদ > গতকাল আবারও রক্তাক্ত জাল ভোটের মহোৎসব দেখলাম

গতকাল আবারও রক্তাক্ত জাল ভোটের মহোৎসব দেখলাম

নিজস্ব সংবাদদাতা :

বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেছেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার আমরা আবারও সেই রক্তাক্ত জাল ভোটের মহোৎসব দেখলাম। কেন্দ্র দখল করে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা, প্রার্থী-নির্বাচনী এজেন্ট-সমর্থক ও ভোটারদের মারধর করে, সশস্ত্র হামলা করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে ভোট দেওয়া, প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সিল মারে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, বর্তমান সিইসি নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা জানেন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের ১২৭টি এলাকায় বিভিন্ন পদে সাধারণ, স্থগিত নির্বাচন ও উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী সশস্ত্র ক্যাডারদের সেই পুরোনো তাণ্ডব, তা আবার ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকার ভোট জালিয়াতির কিছুটা খণ্ডচিত্র আজ আপনারা গণমাধ্যমে দেখেছেন। রকিব মার্কা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হলো, সেই ভয়াবহ দৃশ্যই গতকালের নির্বাচনে দেখা গেল। সাংবাদিকরা তাণ্ডবের ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরা ভাঙচুরসহ সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে আগের রাতেই বাক্স ভরে রাখা, সকাল ১০টার আগেই ভোট শেষ হয়ে যাওয়া, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট ও ভোটারদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে জাল ভোটের মহোৎসব, প্রকাশ্যে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের জাল ভোট প্রদান, হামলা, ভাঙচুরসহ নানা তাণ্ডব চলে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে। এমনকি ভোটকেন্দ্র থেকে ভোটারদের মারধর করে বের করে দিয়ে স্কুলছাত্রদেরও লাইন ধরে ভোট দিতে দেখা গেছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গাসহ ১২৭টি এলাকায় পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরেই নির্বাচন এলাকাগুলোয় সশস্ত্র তাণ্ডব চালিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচার-প্রচারণা পর্যন্ত করতে দেয়নি। বিভিন্ন স্থানে বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে শাসকগোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার প্রতিবাদ করলেও এমনকি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব সুস্পষ্টভাবে মিডিয়ায় প্রচার হলেও বর্তমান সিইসিসহ নির্বাচনী কর্মকর্তারা কোনো কর্ণপাত করেননি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি দূরে থাক, তারাও ক্ষমতাসীন দলকে বিজয়ী করতে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়।

কুমিল্লায় ভোট ডাকাতি ও সন্ত্রাসের উদাহরণ দিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কুমিল্লার চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে রাতেই ব্যালটে সিল মেরে রাখে ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা। এ ছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের চাটিতলা, আটিয়াবাড়ী, ভোলাইন, তুগুরিয়া কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে। বিএনপির এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিএনপির এজেন্ট সাজিয়ে বসিয়ে রাখা হয়। গণমাধ্যমের গাড়ি দেখে নিজেদের লোকজনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। চাটিতলা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৬ নম্বর বুথে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে ভোট দিতে দেখা যায়। এখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যালট ভোটারদের দেওয়া হয়নি।

নাঙ্গলকোট ও লাকসাম উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে ২০টি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যান পদের কোনো ব্যালট পাননি ভোটাররা। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে—লক্ষ্মীপদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও মাহিনী কেন্দ্র, রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের মনতলী কেন্দ্র ও বেতাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ভেল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের উষা কেন্দ্র প্রমুখ। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা রাতেই ব্যালটে সিল মেরেছে। এ জন্য ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য ব্যালট পাননি। নাঙ্গলকোটে কেন্দ্র দখল করে সিল মারার সময় ছবি তুলতে গেলে কুমিল্লা ডট টিভি নামে একটি অনলাইন টিভির সাংবাদিক শরীফ আহমেদ মজুমদারের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত ১১টার দিকে নাঙ্গলকোটের রায়কোট ইউনিয়নের লক্ষ্মীপদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নাঙ্গলকোটে এক মহিলা প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে নির্যাতন চালায় যুবলীগ ক্যাডাররা।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভোলার চরফ্যাশনের জিন্নাঘর, আমিনাবাদ ও নীলকমল ইউনিয়নে আগের রাত থেকেই ভোট দেওয়া শুরু করে আওয়ামী লীগ। সকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে বাকি নির্বাচনী কাজ সম্পন্ন করে। বিএনপি নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। জামালপুরের বকশীগঞ্জেও পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে তাণ্ডবলীলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার ইউপি নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন দুই নারীসহ চারজন। ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র তাণ্ডব চালায়।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, বর্তমান সিইসি নুরুল হুদার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, তিনি যতই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলুক না কেন, সেটি জনগণের সঙ্গে ধাপ্পাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। তিনি আওয়ামী সরকারের ছায়াঘেরা পথেই হেঁটে নির্বাচন পরিচালনায় নিজ প্রভুদের খুশি করবেন। এর বাইরে তিনি যেতে পারবেন না। তাঁর অধীনে যেকোনো নির্বাচনই ইতিহাসে কলঙ্কমাখা নির্বাচনের স্মারক হয়ে থাকবে। কে. এম. নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে বসানো হয়েছে শুধু জনগণকে কোণঠাসা করে ভোটকেন্দ্র সরকারি সন্ত্রাসীদের কাছে ইজারা দিতে।

Leave a Reply

Top