You are here
Home > জাতীয় > কৃষকের চোখের আশার আলো জলছে, তিস্তা ব্যারাজে পানি বাড়ছে

কৃষকের চোখের আশার আলো জলছে, তিস্তা ব্যারাজে পানি বাড়ছে


নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজে পানি বাড়ছে। রংপুর অঞ্চলে কৃষকের চোখের আশার আলো জলছে । চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পে সেচ কার্যক্রম শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি। সেচ প্রকল্পটির কমান্ড এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ কার্যক্রমের উদ্ধোধন করা হবে। তিন জেলা নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পানির জোয়ার আরও বাড়লে কমান্ড এলাকার ৭৯ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পেতে পারে। বৃহত্তর রংপুরের মঙ্গা দূরীকরণে তিস্তা সেচ প্রকল্প অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। তিস্তা নদী উত্তরের জীবনরেখা। তিস্তা তার জলদুগ্ধে উত্তরের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে। কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো পরোক্ষভাবে। উত্তরের জনপদে তিস্তা অববাহিকার মানুষ তাই তিস্তার কাছে ঋণী। সেচনির্ভর বোরো আবাদে তিস্তার পানির ব্যাপক চাহিদা। আর অন্যদিকে উজানের পানিপ্রবাহের ওপর রংপুর বিভাগের হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্য সেচের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে উজানের জোয়ারে তিস্তা পানিপ্রবাহ রয়েছে পাঁচ হাজার কিউসেক। সরেজমিনে গেলে নদী অববাহিকার জেলে ও নৌকা মাঝিরা বলছে, নদীতে ভালই পানি আসছে। শুষ্ক মৌসুমে উজান হতে পানি প্রাপ্তিতায় নদীজুড়ে চলছে স্রোতধারা। চলছে নৌকা, জেলেরা ধরছে মাছ। গত এক পক্ষকাল হতে নদীতে পানির গড় হিসাব ছিল দেড় হাজার কিউসেক। যা শুক্রবার হতে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কিউসেক।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমে তিস্তা ব্যারাজ থেকে আগামী ১৫ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ প্রদান শুরু করা হবে। সেচে প্রদানের কমান্ড এলাকা তৈরি রয়েছে ৭৯ হাজার হেক্টর। উজানের পানি প্রাপ্তিতার উপর নির্ভর করবে আমরা কতখানি এলাকায় সেচ দিতে পারি। চলতি মৌসুমে রংপুর, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলায় ২৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলার গঙ্গাচরা উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা ৫ হাজার হেক্টর, জলঢাকা উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর ও নীলফামারী সদরে ৭ হাজার হেক্টর, কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, সৈয়দপুর উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর, দিনাজপুর জেলার খানসামা এবং চিরিরবন্দর উপজেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর। বর্তমানে নদীতে উজানের পানির যে জোয়ার রয়েছে এই জোয়ার অব্যাহত থাকলে আমরা ৫০ হাজার হেক্টর জমি পর্যন্ত সেচ দিতে সক্ষম হব। পানি জোয়ার আরো বৃদ্ধি পেলে কমান্ড এলাকার ৭৯ হাজার হেক্টর জমি সেচ পেয়েও যেতে পারে। সূত্র মতে, তিস্তায় যখন পূর্ণমাত্রায় পানি আসত তখন শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৬৫-৭০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হতো। সাধারণভাবে ধান চাষ করলে যে ব্যয় হয়, সেচ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে সেই ধান চাষ করলে ব্যয় হয় ২০ ভাগের ১ ভাগ। এছাড়া ধানের ফলনও হয় বাম্পার। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিস্তায় এবার উজানের জোয়ার ভালই রয়েছে। এই জোয়ার অব্যাহত থাকলে আমরা টার্গেটের বেশি জমিতে সেচ দিতে পারব। পানির জোয়ার আরও বাড়লে কমান্ড এলাকার ৭৯ হাজার হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পেতে পারে নীলফামারী জেলার কৃষকরা ।

Leave a Reply

Top