You are here
Home > সারা বাংলা > জেলার খবর > কারখানা মালিককে পথে বসিয়ে ভাড়াটিয়া লাপাত্তা

কারখানা মালিককে পথে বসিয়ে ভাড়াটিয়া লাপাত্তা

সাইফুল্লাহ, গাজীপুর  :

ভাড়াটিয়া গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর সব মালামাল নিয়ে তালা ঝুলিয়ে চম্পট দিয়েছেন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করলেন মালিক পক্ষ। রোববার বেলা ১২টায় গাজীপুর প্রেসক্লাব ভবনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাইশা মনিশা নীট ওয়ার লিমিটেড এর পরিচালক শাহেদা ওবায়েদ। এ সময় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথর্ী তাঁর তিন মেয়ে ও স্কুলছাত্র এক ছেলে উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে শাহেদা ওবায়েদ জানান, গাজীপুরের ভোগড়ায় শতভাগ রপ্তানিমুখি একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ভাড়া নিয়ে চুক্তি ভঙ্গ ও নানা ধরণের প্রতারণা, ভাঙ্গচুর করে কুচক্রিদের সহায়তায় মালামাল নিয়ে মালিক পক্ষকে পথে বসিয়েছে একটি কুচক্রী মহল। ২৩ লাখ টাকা বকেয়া ভাড়া পরিশোধ না করে, ফ্যাক্টরীর মেশিনারিজ ও আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অন্যান্য জিনিসপত্র ডাকাতি কায়দায় সরিয়ে নিয়ে তালা মেরে চম্পট দেয় ওই ভাড়াটিয়া পক্ষ। এতে করে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ তুলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও আইন-আদালতে প্রতিনিয়ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সুরাহা পাচ্ছেন না। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়–য়া ৪ সন্তানসহ পরিবার পরিজন নিয়ে অর্থিক অনটনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ কারণে সন্তানদের লেখাপড়া ও ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাগজ পত্র ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে মাইশা মনিশা নীট ওয়ার লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. বি. এম. ওবায়েদ ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুন এর সাথে পাঁচ বছরের জন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীটি ভাড়ার চুক্তিপত্র করেন বনানী, ঢাকার জাবেদ আক্তার গং। তিন শ’ টাকা মূল্যমানের চার ফর্দ নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সম্পাদিত ওই চুক্তিপত্রে দেখা যায়, দ্বিতীয় পক্ষ তথা ভাড়াটিয়া জনাব জাবেদ আক্তার ‘ট্যাক্স ডিজাইন সোর্সিং লিমিটেড’ এর চেয়ারম্যান হিসেবে মোট ২৩টি শর্ত পালনের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
চুক্তিপত্রের ২নং শর্ত অনুযায়ী প্রথমে অগ্রীম জামানত হিসেবে ৩৫ লক্ষ টাকা ১ম পক্ষ বা মালিক পক্ষকে বুঝিয়ে দেন ভাড়াটিয়া তথা দ্বিতীয় পক্ষ। ৩ নং শর্ত মোতাবেক মাসিক ভাড়া নির্ধারিত হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে অগ্রীম জামানত থেকে প্রতিমাসে ৮০ হাজার টাকা করে ভাড়া বাবদ কর্তন হবে। বাকী ১ লাখ টাকা আইসিবি ব্যাংক, কাওরান বাজার শাখায় মালিক পক্ষের একাউন্টে (হিসাব নং-০০২০০২৪০০০৮০০১৯) প্রত্যেক ইংরেজি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে পরিশোধের কথা উল্লেখ রয়েছে। চুক্তি নং ১৭ অনুযায়ী ৩ বছর পর থেকে মাসিক ভাড়া হবে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা করে।
তফসিল পরিচয়ে দেখা যায়- গাজীপুর, মধ্য ভোগড়া, চৌধুরী বাড়ী রোডস্থ ৬৩৭, ৬৩৮ প্লটে জমির উপর নির্মিত ভবনের ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার ১২৮০ বর্গফুট (আনুমানিক) ভাড়াকৃত অংশ।
শাহেদা ওবায়েদ জানান, এরপর মালিক পক্ষ ২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল রেজিঃ এডি যোগে মোট ১৬ মাসের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে ফ্যাক্টরী ছাড়ার বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ করেন ভাড়াটিয়াকে। এরপর ওই বছরের ৩০ এপ্রিল ও ২৮ মে সর্বশেষ চূড়ান্ত লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন ভাড়াটিয়া পক্ষকে। কিন্তু ভাড়াটিয়া পক্ষ কোন সাড়া দেন নাই। এর আগে মালিক পক্ষ ‘মাইশা মনিশা নীট ওয়ার লিঃ’ এর ডিরেক্টর শাহেদা ওবায়েদ ২০১৯ সালের ২১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভাড়া না পাওয়া এবং ফ্যাক্টরী দখল মুক্ত করার প্রসঙ্গে লিখিত আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট প্রতিপক্ষ ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগসহ একই বিষয়ে বাসন থানায় ৩০৩ নং সাধারণ ডায়রি করেন তিনি। এ ছাড়াও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপার, বিজিএমইএ -এর প্রেসিডেন্ট বরাবর এর সুরাহা চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
শাহেদা ওবায়েদের স্বামী ভবন মালিক ওবায়েদ অসুস্থ থাকায় উত্তরা, ঢাকায় নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। মুঠোফোন আলাপে ভবন মালিক ওবায়েদ জানান, ২০০৬-০৭ সালে আমার কারখানা ভালভাবেই চলছিল। রানা প্লাজার অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনার সময় চট্রগ্রাম থেকে আমার মালামাল চুরি হলে বেশ কিছু বায়ার ছুটে যায়। এ ধাক্কা সামলে ঘুড়ে দঁাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ঋণের বোঝা বেড়েছে। সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ২০১৮ সালে মালামালসহ কারখানার ভবন ভাড়া দিয়েছি। কিন্তু আমার সম্পদ ও সম্পত্তির উপর ভড়াটিয়ার কুদৃষ্টি থাকায় চুক্তি মোতাবেক ভাড়া পরিশোধ না করে দখলের পঁায়তারা করে। এরপরও ভাড়াটিয়া আমাকে ভবন বুঝিয়ে না দিয়ে মালামাল নিয়ে গেইটে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েছেন।
এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন বয়লার ও জেনারেটর রুম অরক্ষিত ও তালবদ্ধ অবস্থায় থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অনাকাঙ্খিতভাবে তা ঘটলে এলাকায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গণমাধ্যমসহ প্রশাসনের মাধ্যমে আমার ভবন আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মানবিক আকুতি জানাই।
টেক্স-ডিজাইন নীট ওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাবেদ আক্তার এর মুঠোফোন নাম্বারে (০১৭১৩০১৫৪৫৩) এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Top