You are here
Home > সারা বাংলা > করোনা রোগী ভেবেও দাফন কাফনে মানবিক মেয়র

করোনা রোগী ভেবেও দাফন কাফনে মানবিক মেয়র


ইমন খানঃ

রাত তখন ২ টা, গোটা শহর ঘুমে বিভোর। ফেরেস্তার মত হাজির মানুষটি । দাফন ও কাফনে স্ব শরীরে উপস্থিত থেকে মাটি দিচ্ছেন,বাঁশ এগিয়ে দিচ্ছেন, অর্ডার দিচ্ছেন দ্রুত করার জন্য। সাদা পাঞ্জাবি ও পায়জামা পড়া টুপি মাথায় মুখে মাস্ক ও হাতে হ্যান্ড গ্লাভস। চিনতে কষ্ট হয় নি কারোই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। করোনা যোদ্ধা হিসেবে গাজীপুর সহ সারা বাংলাদেশ যাকে মানবিক মেয়র বলে থাকেন। টংগীর একটি প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষক, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চলে গেলেন। অসংখ্য অাত্মীয় স্বজন থাকলেও এই দূর্দিনে পাশে নেই,স্ত্রী সন্তানরা। থাকলেও নিজেকে পরিবার কে বাচাতে দুরে অজোড়ে কাঁদছেন নিরবে। এই কঠিন সমীকরণে একদল কর্মী বাহিনী নিয়ে দাফন, কাফন,জানাজা শেষ করে ঘরে ফিরলেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। গতকালে মারা গেলে বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারনে সময় গড়িয়ে রাত ২ টা। হাজী কছিমউদ্দিন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও টংগী পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার এম এম হেলাল উদ্দিনের ম্যাসেজ পেয়ে দ্রুত চলে আসলেন শিক্ষক ফারুক মাস্টারের দাফন কাফনে। নিজে জনগণের কল্যানে সারাদিন ব্যস্ত থাকার পরেও যে মানুষটি এই স্কুল শিক্ষককের জন্য রাত ২ টায় এসেছেন নিঃসন্দেহে সে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে।
রাত গভীর হওয়ার পরও ক্লান্তিহীন ভাষায় বললেন,একজন শিক্ষক করোনায় পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন,খবর পেয়ে ছুটে আসলাম। তাকে দাফন করেছি,ভালো লাগলো। মেয়র আরো বলেন,মানুষ মানুষের জন্য, আমি নগরের অভিবাবক,তাই সকল দায়িত্ব আমার উপরে পরে। এখানে না অাসলে বুজতাম না, বর্তমান মৃত্যুটা কত কষ্টের। এই কঠিন সময়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে বিধি নিষেধ আছে তা মেনে চলুন। করোনা ভাইরাসের মেডিসিন তৈরি হয় নাই বলে উল্লেখ্য করে মেয়র বলেন,আমরা নিজের নিরাপত্তার জন্য ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য সচেতন হয়ে চলি। আমি সবার কাছে অনুরোধ করে বলছি,এই রাতে কেউ কাউকে মাটি দেওয়ার জন্য আসবে না। এটা বড় কষ্টের তাই সবাই সবার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন।

Leave a Reply

Top