You are here
Home > সুস্থ্য থাকুন > কম বয়সেও হতে পারে স্ট্রোক !!!!!

কম বয়সেও হতে পারে স্ট্রোক !!!!!

কম বয়সের মানুষদের স্ট্রোক হয় না বলেই বেশীরভাগ মানুষ মনে করেন। কিন্তু আসলে এমন ভাবাটা ঠিক নয়। বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এটা ঠিক, তবে কম বয়সের মানুষদেরও হয়ে থাকে স্ট্রোক! হ্যাঁ নবজাতক, শিশু, কিশোর এবং তরুণদের ও হতে পারে স্ট্রোক! সাধারণভাবে বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে, ৪৫ বছরের কম বয়সীদের স্ট্রোক হতে পারে।

যদিও স্ট্রোক হওয়ার সার্বিক হার কমছে। তবে তরুণ এবং মধ্যবয়সীদের, ২০-৫৪ বছর বয়সীদের স্ট্রোকের হার বাড়ছে। নিউরোলজি নামক জার্নালের গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, ১৯৯৯ এবং ২০০৫ সালে স্ট্রোকের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। স্ট্রোকের গড় বয়স কমে ৭১ থেকে ৬৯ হয় এবং ২০ থেকে ৫৪ বছরের মানুষদের স্ট্রোক হওয়ার হার বৃদ্ধি পেয়ে ১৩% থেকে ১৯% হয়। আমেরিকার ৪৫ বছরের মানুষদের মধ্যে স্ট্রোক হওয়ার বাৎসরিক পরিসংখ্যান হচ্ছে – ৪,০০০ নবজাতকের হয় স্ট্রোক, জন্ম গ্রহণ করার পর থেকে ১৮ বছর বয়সের ১,০০,০০০ শিশু ও কিশোরের মধ্যে ১১ জনের স্ট্রোক হয়, ৪৫ এর কম বয়সের মানুষদের প্রতি ১,০০,০০০ জনে ৭-১৫ জনের হয় স্ট্রোক।

তরুণদের স্ট্রোক ভিন্ন কীভাবে?

ফিলাডেলফিয়া এর টেম্পেল ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুল এর স্নায়ুবিদ্যার অধ্যাপক এবং স্নায়ুবিদ্যা বিভাগের এমডি এস অসীম আজিজি বলেন, ‘বয়স্কদের স্ট্রোকের তুলনায় তরুণদের স্ট্রোক ভিন্ন হয়ে থাকে’।

সব ধরণের স্ট্রোকই হয়ে থাকে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহের পরিমাণ কম হলে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হৃদপিণ্ডের ভেতরে বা রক্ত নালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে, জমাটবদ্ধ রক্তের পিন্ড আলগা হয়ে ছোটাছুটি করলে এবং মস্তিষ্কে গেলে স্ট্রোক হয়, একে ইস্কেমিক স্ট্রোক বলে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের কারণগুলো হচ্ছে – সংক্রমণ, আঘাত পাওয়া, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, সিকল সেল ডিজিজ এবং ডিহাইড্রেশন। ডা. আজিজি বলেন, ‘তরুণদের স্ট্রোক হওয়ার কারণ কার্ডিওজেনিক। অন্য কারণটি হচ্ছে ড্রাগের ব্যবহার, বিশেষ করে শিরায় নেয়া হয় যে ড্রাগ।

কার্ডিওজেনিক কারণগুলোর অন্তর্গত রোগগুলো হচ্ছে – রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ, হৃদপিণ্ডের ভাল্বের অস্বাভাবিকতা এবং হৃদপিণ্ডের ডান বা বাম পাশে ছিদ্র নিয়ে জন্মগ্রহণ করা যাকে প্যাটেন্ট ফোরামেন অভেল বলা হয়।

ডা. রাসম্যান বলেন, ‘৪৫ এর কম বয়সীদের স্ট্রোকের কারণ হচ্ছে – ঘাড়ের রক্তনালী বিচ্ছিন্ন হওয়া। এটি বড় রক্তনালীতে ছোট ছিদ্র হওয়ার কারণে হয়। এর ফলে রক্ত জমাট বাঁধে এবং এই জমাটবদ্ধ রক্ত মস্তিষ্কে চলে যায় বলে স্ট্রোক হয়। তরুণদের স্ট্রোক হওয়ার অন্য কারণ হল – মাইগ্রেন, প্রেগনেন্সি, জন্ম নিয়ন্ত্রণের ঔষধ গ্রহণ এবং ধূমপান’।

কম বয়সীদের স্ট্রোক প্রতিরোধ এবং নিরাময়ের উপায়

রাসম্যান আরো বলেন, ‘৪৫ এর কম বয়সীদের স্ট্রোক হওয়ার আরো একটি বড় সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে স্থূলতা’। স্থূলতার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এগুলো যেকোন বয়সের মানুষের স্ট্রোক হওয়ার বড় কারণ।

যেকোন বয়সের মানুষের স্ট্রোক প্রতিরোধ করার কিছু উপায়

# অন্তর্নিহিত রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

# নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা।

# স্যচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া এবং বেশি করে ফল, সবজি ও আস্ত শস্য খাওয়া।

# প্রাথমিক অবস্থাতে উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা।

# ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

# অ্যালকোহল, ড্রাগ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা।

স্ট্রোক রিসার্চ এন্ড ট্রিটমেন্ট নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি রিভিউ আর্টিকেলে জানা যায় যে, ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে বয়স্কদের চেয়ে তরুণদের ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

রাসম্যান বলেন, তরুণদের স্ট্রোক মোকাবেলার ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করা এবং অন্তর্নিহিত কারণ দূর করার চেষ্টা করা উচিত। বয়স্কদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায় হচ্ছে প্রথম স্ট্রোককে অথবা পুনরায় স্ট্রোক হওয়াকে প্রতিহত করা।

সূত্র: এভ্রিডে হেলথ

Leave a Reply

Top