You are here
Home > খেলাধুলা > কঠিন মিশন নিয়ে আজ ইংল্যান্ডের পথে বাংলাদেশ !!!!

কঠিন মিশন নিয়ে আজ ইংল্যান্ডের পথে বাংলাদেশ !!!!

ক্রীড়া প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ক্রিকেটের কঠিনতম সূচি ছিল সেটি। ২০১৫ সালে তাই কঠিনতম বছরের আশঙ্কাটা অমূলক ছিল না মোটেও। শুরুতে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, এরপর পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পিঠাপিঠি তিন সিরিজ। বছর শেষে জিম্বাবুয়ে আসতে আসতে কী হবে, তা নিয়ে ভাবনাতেও ভয় হচ্ছিল অনেকের। কিন্তু সে অগ্নিপরীক্ষায় কী দারুণভাবেই না উতরে যায় বাংলাদেশ!

তুলনায় আসন্ন আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফর আর কত কঠিন? না হয় অচেনা কন্ডিশনে লড়াই করতে হবে, না হয় আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজে লড়াই শেষে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে লড়তে হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপে। মাথার ওপর অদৃশ্যে ঘুরপাক খাবে র্যাংকিংয়ের ব্যাপার-স্যাপারও। তবু ২০১৫-র চেয়ে তো সেটি বড় না। তবে চ্যালেঞ্জটা অনেক বড় সত্যি। আর তাতে উতরানোর সম্ভাবনা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কথায় কাল ফুটে ওঠে যথার্থভাবে, ‘খুব কঠিন তবে অসম্ভব নয়। ’

দীর্ঘ সেই সফরে আজই রওনা হচ্ছে বাংলাদেশ দল। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলা সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়া। দলের সঙ্গে সাসেক্সে যোগ দেবেন দুজন। কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেসহ কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যরাও। সফরের তিনটি ভাগ খুব স্পষ্ট। সাসেক্সে দিন দশেকের ট্রেনিং ক্যাম্প, এরপর ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আয়ারল্যান্ডে, শেষে ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির লড়াই। যেকোনো সিরিজ শুরুর আগে প্রথম ম্যাচ জয়ের গুরুত্বের কথা বরাবর শোনা যায় বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে। কাল মাশরাফি যেমন সফরের প্রথম অংশে ট্রেনিং ক্যাম্পটিকে কাজে লাগানোর কথা বললেন খুব করে, ‘ক্যাম্পটা তো প্রস্তুতির। এরপর আয়ারল্যান্ডে টুর্নামেন্ট। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উইকেট কত আলাদা, তা বলা যাচ্ছে না। শুনেছি আয়ারল্যান্ডে এখনো শীত। আর ইংল্যান্ডে মাত্র গ্রীষ্ম শুরু। সুতরাং আমার মনে হয়, দুই রকম আবহাওয়ায় উইকেটের আচরণও দুই রকম হতে পারে। এর আগে ১০-১২ দিনের ক্যাম্পটা আমাদের খুব কাজে লাগবে। এরপর কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে। আমরা যদি খুব ভালোভাবে তা কাজে লাগাতে পারি, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসটা ঠিকঠাক রাখতে পারি, তাহলে আশা করি ভালোই হবে। ’

ভালো বলতে কত ভালো? ইতিহাসের ছড়ানো-ছিটানো প্রেরণা রয়েছে; কিন্তু বর্তমান বাস্তবতাও অজানা নয় মাশরাফির। তবু ভালো করাকে অসম্ভব মনে হচ্ছে না তাঁর কাছে, ‘বাস্তবতার দৃষ্টিতে বললে, এটা খুব কঠিন সফর হতে যাচ্ছে। প্রতিপক্ষ যারা আছে, তাদের দিকে তাকালে মনে হয়, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এত সহজ হবে না। আবার বলাও যায় না। আমরা ওই কন্ডিশনে ইংল্যান্ডকে দুইবার হারিয়েছি। কার্ডিফে একবার অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়েছি। যদিও এগুলো ইতিহাস, তবে আমার কাছে এখনো মনে হয় এটা সম্ভব। ’ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেই আগুনে লড়াইয়ের আগে নিউজিল্যান্ড-আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। ক্রিকেট-কুলীনদের আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন এখনো দেখার জায়গায় যায়নি বাংলাদেশ, তবে এর আগের টুর্নামেন্টে ঠিকই জেতার সম্ভাবনা মাশরাফির, ‘জানি না কে কী বলবে, তবে আমাদের অবশ্যই জেতার লক্ষ্য থাকবে। তা ছাড়া অনেক হিসাব-নিকাশের ব্যাপার আছে। ওইখানে জিততে পারলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভালো কিছুর সুযোগ তৈরি হবে। না হলে, চাপ বেড়ে যাবে। ’

চাপ বাড়ার আরেক জায়গাও আছে—র্যাংকিং। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে হলে র্যাংকিংয়ে সেরা আটে থাকতে হবে। এখন বাংলাদেশ রয়েছে সাতে। অবস্থান ধরে রাখায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচের চেয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচগুলো যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা জানা রয়েছে মাশরাফির। আয়ারল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ফেভারিট না বললেও সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টটির গুরুত্ব তাই তাঁর কাছে অনেক, ‘এ টুর্নামেন্টে তো ফাইনাল নেই, ফেভারিটের প্রশ্ন তাই আসছে না। ওখানে চারটা ম্যাচ আছে, আমাদের ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলতে হবে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতির জন্য তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবার র্যাংকিংয়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ খুব। ’

সফরের ওই অংশটি সফল হলে কে জানে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও হয়তো তিন পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডকে চমকে দিতে পারে বাংলাদেশ! অধিনায়ক মাশরাফি যেমনটা বলেছেন আর কী, ‘খুব কঠিন তবে অসম্ভব নয়। ’

Leave a Reply

Top