You are here
Home > প্রচ্ছদ > ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে——– আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মেয়র গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন

ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে——– আলহাজ্ব এ্যাডঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মেয়র গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন

স্টাফ রিপোর্টার :


কে যেন বলতেছে,কাদের ভাইকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে,প্রথমে মনে হচ্ছে যেন কানের কাছেই আওয়াজটি পৌছেনি। শোনার জন্য আগ্রহ করতেই ওপার থেকে বেজে উঠলো মোবাইল,নাম্বারটা পরিচিতি সাবেক এক ছাত্রনেতার- তুমি শুনেছো নাকি?  মেয়র সাহেব!  কাদের ভাইকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। বুকের ভিতরে কিসের যেন একটা যন্ত্রণা কাতরাচ্ছে। তরিগরি করে মাকে বললাম হাসপাতালে যাচ্ছি কাদের ভাই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ড্রাইভার দ্রুত গাড়ি বের করে সোজা ঢাকায় যাওয়ার কথা বললাম। অন্যদিন ঢাকার রাস্তায় প্রচন্ড যানযট,মনে হচ্ছে আজ মহান সৃষ্টি কর্তায় রাস্তাটা নিজেই মুক্ত করে দিলো।ঢাকায় রওয়ানা হওয়ার সাথে সাথে কয়েকশ ফোন। সবার কাছে শোনা যাচ্ছে,এবার কাদের ভাই বুঝি আর থাকবে না। বুঝে উঠার আগেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন, বললাম আমি হাসপাতালের কাছে,হাজার হাজার নেতা কর্মী,সাধারণ কর্মী থেকে দেশের সরকার প্রধান আমার জননী সমতুল্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্টপতি। নেত্রী যাওয়ার পরও বুঝলাম সেখানে যাওয়া যাবে না,সকল বাধা অমান্য করে দু চোখ ভরে দেখলাম,কাদের ভাই কে। যে লোকটি যখনি দেখতো,বলতো তোমার খবর কি?  পারবে তো সফল হতে। এখানে সফল হওয়া কঠিন,অতিক্রম করা সহজ নয়,বাধা আর বাধা তবে, রাজনীতিতে বাধা বেশি আসলে সফল হওয়া যায় তারাতারি। তা ছাড়া বয়স কম,চেহারাটা সুন্দর, পাবলিক গ্রহণ করবে তোমাকে,যদি হারিয়ে না যাও। 


আজ শুধু তার সেই কথাগুলো মনে পড়ে,নিজেই সর্তিকারের পথে হারতে শুরু করেছে, মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন সময় পার হচ্ছে আমাদের,যাদের কে সারা জীবন শাসন করে  রাজনীতির মাঠ পাকা করে দিয়েছেন । একটানা গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের বারান্দায়, ১৮ ঘন্টা যাওয়ার পর বুঝলাম কেউ যেন,আমাকে বললো কিছু খেয়ে নেন মেয়র সাহেব। তাকে সান্তনা দিলাম এই তো খাব। নির্ঘূম রাত কাটতে থাকলো। ভারতের ডাক্তার দেবি শেঠীর কথা শুনে মনে হলো,কাদের স্যার কে বিদেশী নিতেই হবে, কারন বুঝলাম কঠিন রোগ, দেশের থেকে বিদেশে ভালো হবে,কারণ সেখানে সাধারণ লোকের ভীর হবে না।চিকিৎসার স্বাধীনতা পাবে,এখানকার রা বেশি করতে গিয়ে মনে সারাক্ষণ ভয় কাজ করবে। বেলা ১২ টায় এয়ারপোর্টে গেলাম,কেন যেন মন বার বার বলছে,প্রিয় নেতা বিমানের পথে হাটবে,আর আমি ও নেতাকে না দেখলে শান্তি পাবো না। আমাকে কাদের ভাইয়ের বিশেষ কেউ বললো-
 তুমি যাবে তো ভাই! চোখে পানি ধরে রাখতে পারলাম না। বললাম মাননীয় নেত্রীর পরে আমার বড় ভাই, অভিবাবক তিনিই তো,তা আর কি , যাচ্ছি যাবো।


বহুদিন পর বিমানে শরীরটা ভার ভার লাগছে, সারাক্ষণ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে,মাথাটায় অনেক বোজা মনে হয়েছে,তারপরও শান্তনা ছিল একটাই ডাঃ দেবি শেঠী বলেছিলেন,মিসেস ভাবি কে আপনি খুবই ভাগ্যবান- বড় সমস্যা হয়ে যেত,সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ । আসা করি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কখন যেন বিমান থামলো,সবাই বলতেছে চলে এসেছি সিঙ্গাপুর। আমি ও নেমে সোজা মাউন্ড এলিজাবেথ হাসোতালে, রাত তখন সিঙ্গাপুর টাইম ১০.৪০ মিনিট টা,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়  ও হাসপাতালের পরিচালক ও নিওরোলজিস্ট প্রফেসর  ডাঃ আবু নাসার রিজভী ভাই,এর কিছুক্ষণ পরে চোখ পড়লো লবিতে বসা( মিসেস কাদের) ইসরাতুন্নেচ্ছা ভাবির দিকে, মনটা আরো যন্ত্রণা দিচ্ছে। তারা ৫ সদস্যের মেডিকেল বোড বসে
 আইসিইউতে দিলো,আমরা অপেক্ষায় আছি ভিতরে যাবো এবং নেতাকে একটু দেখবো,কিন্তু নিয়ম মানতে হয় ঐ খানকার নিয়ম মেডিকেল টিম ছাড়া রোগীর সাথে কেউ দেখা করতে পারবে না। সোফায় হেলান দিয়ে রাত কেটে গেল, বলতে পারলাম না, সকালে ডাঃ রিজভী ভাই বললো,তিন চারটে সমস্যা ধরা পড়েছে,এগুলো আগে সমাধান করতে হবে। কেটে গেল তিনদিন,আগের তুলনায় অনেক ভালো কাদের ভাই। তার চিকিৎসা চলছে পৃথিবীর বিখ্যাত ডাঃ ফিলিপ কোহ এর তত্বাবধানে, তিনিই ঐ মেডিকেল বোডের প্রধান।৯ ই মার্চ সকালে তারাতাড়ি করে হাসপাতালের লবিতে চলে আসলাম ডাঃ রিজভী ভাই বললো – আজ ভালো রেজাল্ট হতে পারে। তার কথা শুনে মনে হলো নতুন করে আরো কিছু রোগ ধরা পড়েছে নাকি!  ভাবির সাথে গতকাল কথা বললাম,ভাবির মনটা আস্তে আস্তে ভালো দেখলাম,তার সাথে কথা বললাম,শান্তনা দেওয়ার ভাষা নাই। গত ১৫ বছর দেখে আসছি,তিনি সব সময় ব্যস্ত থাকতেন, কাদের ভাইয়ের সাথে। কাদের ভাই যখন কোন মানসিক ভাবে চাপে থাকতেন,তাকেই  সাহস দিতেন এই ভাবিই। তার রাজনিতির সকল ক্যারিয়্যার ভাবির জন্য, ভাবি সব সময় দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্য থাকতেন,আজ সেই ভাবিই নিঃস্তব্ধতার মাঝে পড়ে আছেন।সকাল ১১ টায় ব্রিফ করলেন,ডাঃ রিজভী ভাই, ঐ খানকার মেডিকেল বোডের বরাত দিয়ে তিনি জানান,কাদের ভাইয়ের শ্বাসনালী খুলে ফেলা হয়েছে এবং তিনি পরিবার ও ডাক্তারদের সাথে কথা বলছেন,খুব তারাতারি তাকে কেবিনে হস্তান্তর করা হবে । রিজভী ভাইয়ের কথা শুনে মনে হলো কাদের ভাই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরবেন ইনশাল্লাহ। তার অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ। তিনি আমাদের মাঝে আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরবেন সেই আশাই রাখছি —————-!!!!!!!


সূত্র : মাননীয় মেয়র মহোদয়ের, প্রেস উইং মোঃ ইমন খান এর পেইজবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Top