You are here
Home > খেলাধুলা > এটাই তো ‌‌‘আসল’ পাকিস্তান

এটাই তো ‌‌‘আসল’ পাকিস্তান

ক্রিয়া প্রতিবেদকঃ পাকিস্তান ক্রিকেট দল মানেই অনুমান-অসম্ভব কিছু একটা। এই দল সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে অনেক সময়ই বোকা বনে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি মানুষকে কথা বলতে দেখা যায়নি। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বড় হারের পর তো আরও নয়। কিন্তু সেই পাকিস্তানই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিল! জিতে নিল শিরোপা!

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৯টি দেশই পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। রাউন্ড রবিন লিগের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তান জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে পাকিস্তান সেমিফাইনালে খেলেছিল। সে-ও অনেক নাটকের পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিপর্যয়ের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় তা ‘লাইফ লাইন’ হয়েছিল পাকিস্তানের জন্য।

অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডকে টানা হারিয়ে পাকিস্তানকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের ওপর। এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে গেলেই পাকিস্তানের আর সেমিফাইনালে খেলা হয় না। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া জেতায় পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠে যায়। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে ফাইনালে খেল ইমরান খানের দল। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত কাপ জেতে পাকিস্তান।

এই পাকিস্তানই তো পরের দুটি বিশ্বকাপে (১৯৯৬ ও ১৯৯৯) দুর্ধর্ষ দল নিয়েও শিরোপা জিততে পারেনি। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কথা বিশেষ করে বলতে হয়, সেবার দোর্দণ্ড প্রতাপে ফাইনালে উঠে নিজেদের সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবেই দাঁড় করিয়েছিল পাকিস্তানিরা। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে আর শিরোপা জেতা হয়নি। অথচ অস্ট্রেলিয়াকেই গ্রুপ পর্যায়ে হেসেখেলে হারিয়েছিল পাকিস্তান।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ১৯৯২ সালের মতোই কোনো গল্প হয়ে থাকবে পাকিস্তানের জন্য। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম (চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবচেয়ে পেছনের দল) দল পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেবে—বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল এমনই। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বিশাল ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর সে ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ থেকেই পাশার দান উল্টে দিল পাকিস্তান। দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সে সেই দলটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক দুটি দলকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে হারিয়েছে।

এটাই আসল পাকিস্তান। ক্ল্যাসিক পাকিস্তান। যাদের বাতিল করে দেওয়া সব সময়ই ঝুঁকির। আবার যাদের নিয়ে বেশি আশা করলে বেলুনটা ফট্টাস!

Leave a Reply

Top