You are here
Home > অর্থনীতি > এক কাপ চা ও একটা পান এক টাকা

এক কাপ চা ও একটা পান এক টাকা

এস,এম ইসাহক আলী রাজু, নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ-

সারা দেশে এক কাপ চা আর একটি পান কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ টাকা করে বিক্রি হয়। সেখানে এক টাকায় কাপ চা আর একটি পান এক টাকায় পাওয়া যায় তা ভাবাই যায়না। বর্তমান সময়ে দ্রব্য মূল্যের যে উর্ধ্বগতি তাতে বিশ্বাস না হওয়ার কথা। তবে এটাই সত্য, বিশ্বাস না হলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন, নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড় দিয়াড় ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে ‘এক টাকার মোড়ে’ চা বিক্রেতা রজব ব্যপারী লালনের চায়ের দোকানে। চায়ের দোকানটিতে সকালে আর বিকালে ব্যাপক জন সমাগম ঘটে।
যানাগেছে- এই মোড়টির নাম এক সময় নওপাড়া ঈদগাহ মোড় হিসেবে সকলের জানা থাকলেও এখন ওই মোড়টি সকলের কাছে ‘এক টাকার মোড়’ হিসেবে পরিচিত। শুধু নিজ এলাকার মানুষ নয় সেখানে নাটোর সদর সহ আশপাশের উপজেলা থেকেও চা খেতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। নওপাড়া গ্রামের সোবাহান ব্যপারীর ছেলে চা বিক্রেতা রজব ব্যপারী লালন তার বয়স প্রায় ৩৯ বছর। শিক্ষাদিক্ষা বলতে উপজেলার ঠ্যঙ্গামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে কয়েকদিন পড়াশুনা করেছেন। কারণ ছাত্রঅস্থায় লালনের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক মুদিদোকানদার। সে দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় ব্যবসার হাল ধরেন লালন। তখন থেকে তার ব্যবসার দিকেই ঝোক চলে আসে। ১৯৯১ সালে প্রথমে তিনি মাত্র পাঁচশ’ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। প্রায় দু’যুগ ধরে এই চায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসা করে লালনের পুঁজি এখন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। প্রথম দু’বছর পঞ্চাশ পয়সা করে এককাপ চা ও একটি পান বিক্রি করেছেন। তারপর থেকে এখন পযর্ন্ত তিনি এক টাকা করে চা ও পান বিক্রি করে আসছে। তার দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১৪ থেকে ১৫শ’ কাপ চা ও ১২/১৩শ’ টি পান বিক্রি হয়। অতি সামান্য লাভ করেই তিনি এখন নিজেকে সাবলম্বি মনে করেন।
লালন ২০১৪ সালে একই গ্রামের সুবর্ণাা আক্তার শিমাকে বিয়ে করে। শিমা তখন নাটোর নবাব সিরাজ উদ-দৌলা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বতর্মানে তাদের আড়াই বছরের আল-লাম নামে একমাত্র পুত্র সন্তান রয়েছে। স্ত্রী শিমা বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। লালন তার স্ত্রীকে আরো উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায়। লালনের স্ত্রী সুবর্ণাা আক্তার শিমা বলেন, ‘আমার বাবার বাড়ী একই গ্রামে আমি আমার স্বামীর উদ্যোগকে শ্রদ্ধা জানাই। সংসার জীবনে আমি খুবই সুখি। সে আমার পড়ালেখার বিষয়ে যথেষ্ঠ সহযোগীতা করেন।
চা বিক্রেতা রজব ব্যপারী লালন জানান, ‘শুধুমাত্র টাকা রোজগার করাই আমার মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। আমি মানুষের খেদমতে উদ্দেশ্য এক টাকা করে চা ও পান বিক্রি করি। আমার ২৪ বছরের ব্যবসায় প্রথম দু’বছর পঞ্চাশ পয়সা করে বিক্রি করি তার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক টাকা করে বিক্রি করি, এটা আর বাড়বে না। সরকারী বেসরকারী কোন আর্থিক সহযোগীতার চাহিদা নেই আমার। তবে সর্বস্তরের জনসাধারণের সুবিধার জন্য এক টাকার মোড়ে দুটি সোলার লাইট দেয়ার জন্য কর্তাব্যাক্তিদের কাছে
প্রত্যাশা করেছেন।
এক টাকার মোড়ের জমির মালিক মনিরুল ইসলাম জানান, প্রথমে লালনকে একটি চায়ের দোকান বসানোর সুযোগ দেই। বর্তমানে ছোট-বড় পাঁচটি দোকান রয়েছে। আমি কোন দোকান থেকে ভাড়া নেইনা।
ফাগুয়াড় দিয়াড় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বর খলিলুর রহমান জানান, এক টাকার মোড় আমার ওয়ার্ড এলাকা সেখানে দীর্ঘদিন যাবত লালন ১টাকা করে চা পান বিক্রি করে। সকাল থেকেই অনেক লোকজন চা খেতে চলে আসে লালনের দোকানে।
এব্যপারে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিরিন বানু বলেন, দ্রব্য মূল্যের যে উর্ধ্বগতি এ যুগে এক টাকায় কিছু পাওয়াটা দূরহ। লালন নিজেকে স্বাবলম্বি করেছে এবং স্ত্রীকে পড়ালেখা করাচ্ছে এটা খুবই গর্ভের ব্যাপার। একজন ভাল মনের মানুষ বলেই তিনি এমন উদ্দ্যোগ নিয়েছেন। তবে তিনি সর্বসাধারেণের জন্য সোলার লাইট প্রত্যাশা করেছেন তা অবশ্যই গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

Leave a Reply

Top