You are here
Home > প্রচ্ছদ > ইসিকে ‘সমালোচনা মুক্ত’ বক্তব্য দিতে আওয়ামী লীগের পরামর্শ

ইসিকে ‘সমালোচনা মুক্ত’ বক্তব্য দিতে আওয়ামী লীগের পরামর্শ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবক্তা বলার ব্যাখ্যা না চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে ‘সমালোচনা মুক্ত’ বক্তব্য-বিবৃতি দিতে পরামর্শ দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বুধবার বেলা ১১টা থেকে ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁও কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। সংলাপে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। সংলাপে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, সংলাপে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা সিইসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের এসব কথাবার্তা ইস্যু হতে পারে, ক্যাশ করতে পারে। মিস কোড হতে পারে। সুতরাং একটু সংযত হয়ে কথা বলাই ভালো। লিখিত প্রস্তাবের বাইরে সিইসিকে নির্বাচনের আগে অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

যদিও সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে ‘নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা’ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন ব্যাখ্যা নয়, বরং সংযত কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের লিখিত ১১টি প্রস্তাব হলো- আরপিও-১৯৭২ ও দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউশন অর্ডিনেন্স-১৯৭৬ এর বাংলা ভাষান্তরের উদ্যোগ প্রশংসনীয়, এতে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকবে। এক্ষেত্রে আরপিও এর ৯৪/এ ধারা অনুসরণযোগ্য। নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশীশক্তির ব্যবহার রোধকল্পে সংবিধানে বর্ণিত নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা ও বিদ্যমান নির্বাচনী আইন এবং বিধিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

প্রজাতন্ত্রের কর্মে ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অপেশাদার ও দায়িত্বহীন আচরণের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের পরিবর্তে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রিজাইডিং ও সহকারী অফিসার পদে নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীদের একটি চূড়ান্ত প্যানেল প্রণয়ন করতে প্রয়োজনে আরপিও এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ আওয়ামী লীগের। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দলটির। বিশেষ দল বা ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যশীল ব্যক্তি বা সংস্থাকে দায়িত্ব না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এছাড়া সাংবাদিকদের নির্বাচনী বিধিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনে নির্দেশনা দিতে প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। তাদের উপযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান ও দায়িত্বকর্ম এলাকা নির্ধারণ করে দিতে বলেছেন তারা।

প্রার্থীদের নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের তালিকা ছবিসহ নির্বাচনের তিনদিন আগে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রদান এবং প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক এজেন্টদের পরিচয় নিশ্চিত করে কেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কেন্দ্রে থাকা নিশ্চিত করার প্রস্তাব তুলেছে আওয়ামী লীগ। প্রস্তাবে রয়েছে, সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বর্তমান বিধিবিধানের পাশাপাশি আধুনিক রাষ্ট্রসমূহের মত ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা।

পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব দিতে বলছে দলটি। এছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে আইন ও সাংবিধানিক নিয়মের সাংঘর্ষিক বলছেন তারা। আইনশৃংখলার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়োগ করা যাবে তা ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে বলে দাবি দলটির। নতুন আদমশুমারী ব্যতিত সংসদীয় সীমানা পুনঃনির্ধারণ জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Top