You are here
Home > আন্তর্জাতিক > ইউরোপের মুসলমানদের নিয়ে নতুন তথ্য

ইউরোপের মুসলমানদের নিয়ে নতুন তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইউরোপের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ বাড়ছে এবং প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুইজন অর্থাৎ ৪০ শতাংশ মুসলমান বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। চাকরি, বাড়ি ভাড়া নেয়াসহ শিক্ষার মতো সরকারি সেবা নেয়ার ক্ষেত্রেও ইউরোপের মুসলমানরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।একটি মতামত জরিপে এ তথ্য উঠেছে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন গত ১২ মাসে তারা অপমানসূচক আচরণ বা গালাগালির মুখে পড়েছেন। আর ২ শতাংশ তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন।

ইউরোপীয় মৌলিক অধিকার সংস্থার পরিচালিত মতামত জরিপে ইউরোপের সমাজব্যবস্থার ইসলামবিদ্বেষী প্রকট এ রূপটি উঠে এসেছে। ২০১৫ সালের শেষ থেকে ২০১৬ সালের গোড়ার দিক পর্যন্ত এটি চালানো হয়। ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন এবং ব্রিটেনসহ ১৫ ইউরোপীয় দেশের সাড়ে ১০ হাজার মুসলমানের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

যে ছবি এখনো কাঁদায়

একটি ছবি হঠাৎ বদলে দিলো ইউরোপে অভিবাসী হতে আগ্রহীদের ভাগ্য। তুরস্কের উপকূলে পড়ে ছিল ৩ বছরের শিশু আয়লান কুর্দির নিথর দেহ। মা-বাবা আর ভাইয়ের সঙ্গে সিরিয়ান শিশু আয়লানও কোবানির বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নিরাপদ জীবনের খোঁজে। এভাবে চিরবিদায় নিতে হয় তাকে।

মা ও সন্তান
রেহান কুর্দির কোলে তার ছোট ছেলে আয়লান৷ কোবানির একটি বাড়িতে এখনো আছে এই ছবি, তবে ছবির দু’জন মানুষ আর নেই। সিরিয়া থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথেই ফুরিয়েছে তাদের জীবন চলার পথ। এ খবর সারা বিশ্বকে জানিয়েছিল অন্য একটি ছবি।

আয়লান জাগিয়ে গেল
আয়লানের ওই ছবি নাড়িয়ে দেয় বিশ্ববিবেক। ইউরোপে আসার পথে যেখানে হাজারো মানুষ শত বাধার মুখে এক সময় হার মানতো, প্রাণ দিতো, সেখানে ধীরে ধীরে অনেকটাই খুলে গেল ইউরোপের দ্বার। অভিবাসন প্রত্যাশীরা অবাধে আসতে শুরু করল মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে।

যেভাবে বিদায় জানালো জন্মভূমি
দুই সন্তান আর স্ত্রী-কে হারিয়ে নিরাপদ জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন আয়লানের বাবা আব্দুল্লাহ কুর্দি। তাই গ্রিস হয়ে ইউরোপের উন্নত কোনো দেশে নতুন করে জীবন শুরু করার ইচ্ছে জলাঞ্জলি দিয়ে ফিরে যান সিরিয়ায়। তার কোবানির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ। জানাযা শেষে ওই শহরেই কবরস্থ করা হয় তাদের।

কান্না আর আহাজারি
আব্দুল্লাহ কুর্দি তার পরিবারের সদস্যদের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলে কান্নার রোল উঠেছিল কোবানিতে। আয়লানদের জন্য কোবানি এখনো কাঁদে।

আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক…
অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছে আয়লান এখন প্রতিবাদের প্রতীক। ইউরোপে যেখানেই অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ, সেখানেই থাকে আয়লানের ছবি। অভিবাসন প্রত্যাশীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের এই ছবিটি প্যারিসের।

 ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দফতরেও আয়লান
ছবির এই নারী আয়লানের আত্মীয়া, নাম ফাতিমা কুর্দি। ব্রাসেলসে জাতিসংঘের সদর দফতরের বাইরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছিলেন তিনি। ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন আইনের সমন্বয়ের দাবিতে আয়োজিত সেই সমাবেশেও ছিল আয়লানের ছবি। তবে সেই ছবি নয়, সেই ছবির আদলে হাতে আঁকা একটি ছবি দেখা যায় দেয়ালে। সেই ছবির পাশেই দাঁড়িয়ে ফাতিমা কুর্দি। ডয়চে ভেলে

আরেক আয়নাল রোহিঙ্গা শিশুটি

নিথর পড়ে থাকা এই শিশুটি আয়নাল কুর্দি নয়। এটি সিরিয়ার কোনো যুদ্ধ ক্ষেত্রের ছবি নয়। ছোট নিষ্পাপ এ ছবিটি মায়ানমারের মুসলিম রোহিঙ্গা শিশু। জীবন বাঁচাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিল নাফ নদীতে অজানা গন্তব্যে। কিন্তু তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। ডুবে জীবন দিয়ে হয়তো বেঁচেই গেছে মায়ানমারের এ আয়নাল! কিন্তু শিক্ষা দিয়ে গেছে বিশ্ব বিবেককে। ঘুমিয়ে থাকা বিবেকের কাছে রেখে গেছেন হাজারো প্রশ্ন। এভাবে কি বিপন্ন হবে মানবতা?

মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বহণ করা নৌকাডুবিতে নিহত হয় শিশুটি। এরপরই ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই সরব হলেও জেগে ওঠেনি বিশ্ব বিবেক। শিশুটি মায়ানমার থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পালিয়ে আসে। কিন্তু জীবন বাঁচাতে ঠাই হয়নি কোথাও। যখন পৃথিবীর কোথাও আশ্রয় নেই তখন কাদামাটিতে খুঁজে নিল এক আশ্রয়। যার নাম মৃত্যু।

Leave a Reply

Top