You are here
Home > জাতীয় > আরিচা ও পাটুরিয়ায় বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আরিচা ও পাটুরিয়ায় বেপরোয়া দুর্বৃত্তরা, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টারঃ মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে যাত্রীদের ভিড় ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে অনেক মানুষ। এ দু’ঘাটে হাজারো মানুষের ঢল নামলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপরাধীরা গত কয়েক দিনে সাধারণ যাত্রীদের পকেট কেটে নিয়েছে নগদ অর্থ, অনেকেই খুইয়েছে মোবাইল সেট, ল্যাপটপসহ মূল্যমান জিনিসপত্র; পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। এছাড়া প্রতিটি বাসে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করায় স্বল্প আয়ের মানুষ খোলা ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে- এ সকল অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ‘অজ্ঞাত’ কারণে নিশ্চুপ থাকায় ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণেরা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও পাবনার কাজিরহাট থেকে ফেরি-লঞ্চ, স্পিটবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে ঈদ ফেরত যাত্রীরা পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে পৌঁছে বাস-কোচ খোলা ট্রাক ও পিক-আপে চড়ে গন্তব্যে রওয়ানা দিচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। ঈদের আগে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় উভয় ঘাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, র‌্যাব-আমর্ড পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিমসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর অতিরিক্ত লোকজন নিযুক্ত থাকলেও বর্তমানে তা না থাকায় বিভিন্ন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে।

গত কয়েক দিন যাবৎ এ দু’ঘাটে কর্মমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগে বহিরাগত পকেটমার ছিচকে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপরাধীরা ফেরি-লঞ্চ ও বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ঈদ ফেরৎ যাত্রীদের টার্গেট করে মোবাইলসেট, মানিব্যাগসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নিচ্ছে। পাটুরিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও শিবালয় থানার স্বল্প সংখ্যক পুলিশ ঘাটে ডিউটি করছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই অপরাধীদের সহায়তা করছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ তুলেছে।

দৌলতদিয়া থেকে ফেরিতে পার হয়ে আসা ঢাবি ছাত্র মঞ্জুরুল আলম জানান, ওপারে প্রায় ৪ ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকার পর আমাদের বহনকৃত সাকুরা পরিবহনের বাসটি ফেরিতে উঠে। পথিমধ্যে বাসের জানালা দিয়ে ল্যাপটপের ব্যাগটি কে বা কারা নিয়ে যায়। ফেরির মধ্যে অনেক খোঁজা খুজি করে তার কোনো সন্ধান মিলে না। একই রুটে লঞ্চে পার হয়ে আসা যাত্রী মানিব্যাগ হারিয়ে বিপাকে পড়ে। পাটুরিয়া বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপর কয়েক যাত্রীর অনুরুপ পরিণতি। তারা পকেটমারের কবলে পরে অন্যের সহায়তা নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দেয়।

অপরদিকে, শনিবার দুপুরে আরিচা লঞ্চ ঘাট ও বাস স্ট্যান্ডে পকেটমারের শিকার কয়েক যাত্রীকে বিমর্ষ অবস্থায় দেখা যায়। এদের মধ্যে পাবনা সাথীয়ার রুবেল মৃধা জানান, লঞ্চ ও ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীর ভিড়ে আমাদের এ দুর্গতি হয়েছে। এ বিষয়ে ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশকে জানালে তারা থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয়। ঝাঁমেলা পোহাতে থানায় না গিয়ে তারা গন্তব্যে রওয়ানা দেয়।

এদিকে, পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে ঢাকামুখী প্রতিটি বাস-কোচে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েক গুন বেশি ভাড়া আদায় করায় স্বল্প আয়ের মানুষ বেশ বিপাকে পরে। ভাড়া বৃদ্ধি হওয়ায় অনেকেই খোলা ট্রাকে ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে রওয়ানা দেয়। এতে নারী-শিশুরা বেশি দুর্ভোগ পোহায়।    এরুটে চলাচলকারী বিভিন্ন বাস মালিক-শ্রমিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো অর্থ বা ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি। স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়া আদায় হয় তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অর্ধেকেরও কম। নিয়মানুযায়ী ভাড়া আদায় করায় যাত্রীরা এমন অভিযোগ উঠছে।

পরিবহন মালিক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জানান, পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে মালিক সমিতির নামে পরিবহন থেকে জোড়পূর্বক চাঁদা আদায় করছে। অথচ, এদের নামে বা মালিকানায় একটিও গাড়ি নেই। ইতোপূর্বে এদের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বাস চালকদের অভিযোগ, প্রতি ট্রিপে ৫ শ’ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আমাদের চাঁদা দিতে হয়। এ খরচ পুষিয়ে নেয়ার জন্যই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পরিবহনে বাড়তি ভাড়া ও চাঁদা আদায়ের বিষয়ে শিবালয় থানার নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, ঈদের পরে যানবাহনের তুলনায় যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাময়িকভাবে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়তি ভাড়া ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সোচ্চার রয়েছে।

শিবালয় থানা ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঈদের আগে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তায় উভয় ঘাট এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীর অতিরিক্ত লোকবল নিযুক্ত থাকায় ঘরমুখো যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এর সংখ্যা কম হওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। তবে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

Leave a Reply

Top