You are here
Home > অর্থনীতি > আমন ধান কাটার আনন্দের উৎসব।

আমন ধান কাটার আনন্দের উৎসব।


মোঃ নুর আলম,চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

চিরিরবন্দরে উপজেলার কৃষকরা আমন ধান ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। পাকা আমন ধানের গন্ধে ভরে উঠেছে আবহমান জনপদ। সোনালী মাঠ এখন হেমন্তের পাকা ধানে ভরপুর। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটার উৎসব। সোনালী ফসল রোপা আমন ধানকে ঘিরে নানা স্বপ্ন বাস্তবায়নের জাল বুনেছে তারা। এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি কৃষক এখন আমন ধানে ঘিরে চলছে নানা উৎসব আর নবান্নের আমেজ। ভাল ফলন ও দামে বেশী পেয়ে খুশি কৃষকেরা। বিভিন্ন উপজেলায় মাঠজুড়ে এখন পাকা সোনালী শিষের দোলা। বিস্তৃত মাঠজুড়ে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধুই ধানের শিষ। কোথাও ধান কাটা আবার কোথাও ধানের মাড়াই নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষানীরা। কৃষকদের মুখে স্বপ্ন বিভোর সোনালী হাসি। কৃষকদের চলতি মওসুমে মাজরা পোকার আক্রমন, গাছ ফড়িং রোগ শিষ ও পাতা মরা থেকে ক্ষেত বাচাঁতে প্রয়োগ করা হয়েছিল কীটনাশক। তবে চাষিরা জানান, ইঁদুরের আক্রমণ অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এরপরও তারা ভালো ফলনের আশা করছেন। চিরিরবন্দর উপজেলায় আমন ধানের ব্যাপক ফলন পাওয়া যাচ্ছে, এবং আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে এই মৌসুমে উপজেলায় ২৩ হাজার ১ শত ৭৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও পরবর্তী সময় কাটিয়ে অর্জিত হয়েছে ২৩ হাজার ২ শত ১৫ হেক্টর জমি যা গত বছরের থেকেও বেশি। চিরিরবন্দর উপজেলায় আব্দুলপুরের ওয়াজেদ জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ২৮ মণ ধান পেয়ে খুব খুশি। চিরিরবন্দরে মর্ত্তমন্ডল আলহাজ্ব রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আমি ২০ বিঘায় আমন ধান চাষ করেছিলাম। আমার প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদন হয়েছে ২৭ মণ। আমার ধান কেটে মাড়াই প্রায় সম্পন্ন করেছি। এবং বাজারে বিক্রি করেছি ১৭০০-১৮০০ টাকা দরে। তিনি আরো বলেন আমার প্রতি বিঘায় ধানে খরচ হয়েছে ৬ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে হাট-বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করেছে। চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং সময় মত পোকার ও রোগ বালাই কম দেখা দিয়েছে। কিছুটা মাজরা পোকা ও গাছ ফড়িং এ ক্ষতি করলেও আমরা সময় মত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। এতে করে ধানের ফলন ভাল হচ্ছে। তবে গত মাসে ধানের দানা আসার সময় অতি বৃষ্টির কারণে ধানের গাছ গুলো মাটিতে শুয়ে যাওয়ার কারণে ফলন কম হয়েছে। তবে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা ঘাটতির কিছুটা পুষিতে নিতে পারবেন বলে তিনি আশা করেছেন।

Leave a Reply

Top