You are here
Home > খেলাধুলা > আগামী বিশ্বকাপে তরুণ তুর্কিদের নিয়ে পাক কোচের পরিকল্পনা

আগামী বিশ্বকাপে তরুণ তুর্কিদের নিয়ে পাক কোচের পরিকল্পনা

ক্রিয়া প্রতিবেদকঃ পাকিস্তানের প্রধান কোচ মিকি আর্থার বলেছেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করা ও র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে নেয়া। ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আর্থার বলেন, ‘বর্তমানে আমরা একটি সফল মৌসুম শেষ করেছি এবং আমরা সঠিক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে এগুচ্ছি। আমরা কেবলমাত্র আগামী সিরিজগুলোর দিকেইই নজর দিচ্ছি না, একইসাথে প্রধান ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ২০১৯ বিশ্বকাপের জন্য আমাদের খেলোয়াড়দের ও দলকে প্রস্তুত করা। পাকিস্তান দলকে আমাদের শীর্ষে নিতে হবে। তবে অবশ্যই এ জন্য সময় প্রয়োজন। তবে কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও অঙ্গীকারের মাধ্যমে সে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবো বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের টেস্ট দলটি খুবই ভাল করছে এবং ওয়ানডে দলের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যদিও ইংল্যান্ডে প্রথম ম্যাচে আমরা পরাজিত হয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছি, যা ছিল অসাধারণ কিছু। আমরা দিনে দিনে আরো ভাল করছি এবং পাকিস্তান দলের ভবিষ্যত নিয়ে সত্যিই আমি দারুণ উত্তেজিত।’

সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ও ইউনিস খানের বিকল্প বিষয়ে প্রধান কোচ বলেন, ‘টপ অর্ডারে আমাদের বাবর আজম, আজহার আলী এবং আসাদ শফিক আছে, যাদেরকে দাঁড়াতে এবং দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া আমাদের আরো কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে, যাদের নিয়ে একটি আদর্শ কম্বিনেশন সম্ভব। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে আমাদের অনেক খেলোয়াড় রয়েছে, যারা শূন্যস্থান পূরণ করবে। আমরা তরুণ কিছু ভাল খেলোয়াড়ের উন্নতি করছি, যারা অনেক বেশি সুযোগ পাবে। সুতরাং তারাই পাকিস্তানের ভবিষ্যত তারকায় পরিণত হবে।’

ব্যাটিং বিভাগের খারাপ অবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মিকি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের জন্য একটি গঠনমূলক কাঠামো এবং মানসম্মত একটি উত্তরাধিকার রেখে যেতে চাই। আমাদের ব্যাটিং লাইন আপ প্রকৃত অর্থেই ভাল করতে শুরু করেছে। এ বিভাগে আমাদের উন্নতি করার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তবে প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছু তরুণকে ভাল করা শুরু করতে হবে। অবশ্যই আমাদের ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে। প্রতিটি সিরিজেই আমাদের ব্যাটিংয়ের উন্নতি হচ্ছে। অপর বিষয়টি হচ্ছে আমি মনে করছি আমাদের বোলিং বিভাগ এখন খুবই ভাল। পেস-স্পিন উভয় বিভাগেই আমাদের বোলিং বিভাগে যথেষ্ট গভীরতা আছে। যা একটা বড় দিক।’

ওয়াহাব রিয়াজের ভবিষ্যত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বোলিং বিভাগে প্রতিযোগিতাটা খুবই ভাল ও উৎসাহব্যাঞ্জক। তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের পারফরমেন্স দিয়ে জাতীয় দলের কড়া নাড়ছে। সুতরাং সিনিয়র খেলোয়াড়দের মাত্রারিক্ত ভাল কিছু করতে হবে। কেননা এটাই কেবল তাদেরকে নিরাপদ রাখতে পারবে। ওয়াহাব একজন ভাল খেলোয়াড়। তবে একইসাথে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো তরুণ খেলোয়াড়রাও দলে রয়েছে। সুতরাং এখানে কঠিন প্রতিযোগিতা আছে। তাই দলে জায়গা ফিরে পেতে ওয়াহাবকে প্রকৃত অর্থেই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

আচরণ ও ফিটনেস সমস্যায় ভোগা উমর আকমল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আর্থার বলেন, ‘ফিটনেসের বিষয়ে আমরা কোনোভাবেই আপোস করব না এবং ফিটনেসর বিষয়ে আমরা খেলোয়াড়দের জন্য কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছি। যারা এ মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে তারাই দলে থাকবে। যার ফল হিসেবে খেলোয়াড়দের রানিং বিটুইন উইকেট, ভাল ফিল্ডিং এবং ভাল পারফরমেন্স করা সম্ভব। উমর সাতবার সুযোগ পেয়েছে, সুতরাং দলে তার জায়গা নিশ্চিত করতে পারা উচিত ছিল।’ আহমেদ শেহজাদের বিষয়ে কোচ বলেন শেহজাদের ফিটনেস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, তার দরকার নিজের ব্যাটিংয়ের উন্নতি করা এবং দলে ফিরতে পারফর্ম করা।

মিসবাহ ও ইউনিস অবসর নেয়ায় ব্যাটিং কম্বিনেশনটা কি হবে জানতে চাইলে মিকি বলেন, ‘ওপেনিং জুটি হিসেবে আমাদের শান মাসুদ এবং সামি আসলাম আছে। ওয়েস্ট ইনিডজ সফরে সালাউদ্দিনও ওপেনার হিসেবে ভাল করেছে। তিন নম্বর থেকে শুরু করে আমাদের আছে আজহার আলী, বাবর আজম ও আসাদ শফিক। আমাদের ব্যাটিং কম্বিনেশনটা এখনো যথেষ্ট ভাল এবং এটা বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করে আমাদের ব্যাটম্যানরা ভাল ফল করতে পারে।’ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয় ছিল অবিশ্বাস্য এবং পুরো দেশ ও ক্রিকেট ভক্তরা সর্বোতভাবে উপভোগ করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকান আর্থার বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর সত্যিকারার্থেই খেলোয়াড়দেরকে সম্ভাসন ও সম্মান জানানো হয়েছে। এমনকি এখনো বড় ধরনের সম্মান পাচ্ছে এবং আমার নিজের জন্য কোচিং ক্যারিয়ারে এই তিনটি সপ্তাহ ছিল সেরা সময়। তবে একজন কোচ হিসেবে আমার জন্য এটা শেষ হয়ে গেছে এবং খেলোয়াড়দেরকে এটা ভুলে গিয়ে এখন ২২ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া অনুশীলন ক্যাম্পে মনোযোগ দিতে বলেছি। এটাকে তাদের নতুন যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ। এখন তাদেরকে ফিরে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং আগামী সিরিজগুলোর জন্য আরো ভাল করতে হবে, ২০১৯ বিশ্বকাপ শিরোপায় মনোনিবেশ করতে হবে।’

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাথে আর্থারের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এখনো দুই বছর বাকি আছে এবং মেয়াদ আরো বাড়াতে আগ্রহী কিনা জানতে চাইলে আর্থার বলেন, ‘কোচিং পেশায় কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। আমরা কেবল মাত্র একটি সিরিজ নিয়ে নয় ২০১৯ বিশ্বকাপ নিয়ে পরিকল্পনা করছি। সুতরাং এ বিষয়ে আমি পিসিবি’র সাথে কোন আলোচনা করিনি এবং সময় হলে এটাও আলোচনা হবে।’

Leave a Reply

Top