You are here
Home > দূরনীতি ও অপরাধ > আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর, তিন পুলিশ প্রত্যাহার !!!

আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর, তিন পুলিশ প্রত্যাহার !!!

রাজশাহী প্রতিবেদক :

রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার ভেতরে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগে পুলিশের তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত আদেশ গোদাগাড়ী থানায় পৌঁছালে তাঁদের জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া তিন পুলিশ সদস্য হলেন, গোদাগাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানুল হক, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহিন আলী ও কনস্টেবল সোহেল রানা। আর পুলিশের মারধরের শিকার হয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুল মালেক (৪৮)। গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক সংস্কারের কাজে স্থানীয় লোকজন অনিয়মের অভিযোগ তোলে। অভিযোগকারীদের শায়েস্তা করতে ঠিকাদার পুলিশকে কাজে লাগায়। ঠিকাদারের কথামতো শুক্রবার বিকেলে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ শহিদুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যান আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক। তাঁর কথায় পুলিশ শহিদুলকে ছেড়ে দেয়। তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় মালেকের সঙ্গে থাকা সুলতানুল বাবু নামে আরেক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। এতে বাধা দেন আবদুল মালেক। এ সময় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এসআই আহসানুল হক, এএসআই শাহিন আলী ও কনস্টেবল সোহেল রানা মারধর করেন আবদুল মালেককে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, থানায় আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধরের ঘটনা জানাজানি হলে ওই তিন পুলিশ সদস্যের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার রাতে দলীয় নেতা-কর্মীরা রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে থানার ওসি সেখানে গেলে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ওসিকে রক্ষায় তাঁর দেহরক্ষী আমিনুল ইসলাম এগিয়ে গেলে তাঁকে মারধর করে বিক্ষোভকারীরা। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের শান্ত করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের শাস্তির আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ তুলে নেন নেতা-কর্মীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। অপরদিকে ওসির দেহরক্ষী আহত হওয়ার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক বলেন, তিন পুলিশের প্রত্যাহারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও পুলিশ সদস্য জড়িত রয়েছে। তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে ওসি হিপজুর আলম মুন্সি জানান, শুক্রবার রাতেই ঘটনার তদন্ত করেছেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমিত চৌধুরী। তদন্তে তিনি ঘটনার সত্যতা পান। এরপর তিনি এই তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করে পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে একটি প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এসপি তাদের প্রত্যাহারের আদেশ দেন।

ওসি আরও বলেন, পুলিশ আক্রান্ত হলে একটি মামলা করতে হয়। সে জন্য শুক্রবার রাতেই মামলাটি করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন থানার এসআই আবদুল লতিফ। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। আসামিরা সব অজ্ঞাত।

Leave a Reply

Top