You are here
Home > অর্থনীতি > অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তে নাখোশ সরকার ও মালিকপক্ষ

অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তে নাখোশ সরকার ও মালিকপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কর্মরত ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড) তাদের নির্ধারিত সময়ের পর আরও তিন বছর কার্যক্রম চালাবে। প্রয়োজন হলে এরপর আরও এক বছর কার্যক্রম চালাতে পারবে তারা। কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতার বিষয়টি তদারক করবে এই জোট।

অ্যাকর্ডের এই দ্বিতীয় সংস্করণের চুক্তিতে সায় দিয়েছে ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক ট্রেড ইউনিয়ন। তবে জোটের এমন সিদ্ধান্তে নাখোশ সরকার ও পোশাকশিল্পের মালিকেরা। উভয় পক্ষই বলছে, অ্যাকর্ড সরকার ও খাতসংশ্লিষ্টদের না জানিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের পর সাসটেইনবল কমপ্যাক্টের মাধ্যমেই অ্যাকর্ড গঠিত হয়। প্রায় ২০০ ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে। আগামী বছরের মে মাসে তাদের কার্যক্রম গোটানোর কথা ছিল।

সাসটেইনবল কমপ্যাক্টের অংশীদারদের ডেকে গতকাল রোববার বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলে দিয়েছেন, অ্যাকর্ড একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি কোনোক্রমেই প্রত্যাশিত নয়। সচিবালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি নেওয়ার আগে অ্যাকর্ডের উচিত ছিল বাংলাদেশ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আগে আলোচনা করা। বৈঠকে আমরা বলেছি, সিদ্ধান্তটি প্রত্যাশিত নয়। অ্যাকর্ড প্রস্তাব দিতে পারে, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।’

বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান, মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজকের (গতকাল) বৈঠকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কাছেও সিদ্ধান্তের বিষয়টি আকস্মিক লেগেছে। তাঁরা বলেছেন, তাঁরা জানতেন না যে এতে কী আছে। চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত যে ঠিক নয়, আমরা যখন এ কথা জানিয়েছি, তারা এতে দ্বিমত পোষণ করেননি। নতুন নতুন সমস্যা বাংলাদেশের সামনে এনে হাজির করা হয় বলে জানান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যখনই কোনো সমস্যার সমাধান করি, তারা তখন নতুন সমস্যা নিয়ে আসেন। বিশ্বের কোথাও অ্যাকর্ড নেই, শুধু বাংলাদেশে। তবে আলোচনা আন্তরিক হয়েছে।’

অ্যাকর্ড হচ্ছে পোশাক ক্রেতাদের একটি জোট। তাহলে রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনা করে কী হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো ইইউর কাছ থেকে সুবিধা পাই। আমরা খেয়াল রাখি তারা যাতে অসন্তুষ্ট না হয়।’

অ্যাকর্ড গত বৃহস্পতিবার জানায়, তারা বাংলাদেশে থাকবে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত। এরপর তারা বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে চলে যাবে। এ জন্য অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে একটি সমীক্ষা করবে। এ সময় তারা দেখবে, সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান সক্ষমতা অর্জন করেছে কি না। অন্যথায় অ্যাকর্ডের সময়সীমা আরও ১ বছর পর্যন্ত বাড়বে।

গত ২৮ জুন নতুন চুক্তির বিষয়ে ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে বিজিএমইএকে জানায় অ্যাকর্ড। পরে ই-মেইলের পাল্টা জবাবে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অ্যাকর্ডের সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় সরকার ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের যুক্ত করতে হবে।

জানা যায়, নতুন সংস্করণ বাস্তবায়িত হলে পোশাক খাতের সরবরাহ ব্যবস্থায় থাকা সুতা, বস্ত্র, সরঞ্জাম ও মোড়কীকরণ পণ্য উৎপাদনের কারখানা পরিদর্শন ও কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতার বিষয়টি তদারক করার অধিকার পাবে অ্যাকর্ড। মূলত এই দুটি বিষয় নিয়ে পোশাকশিল্পের মালিকেরা বেশি চিন্তিত।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শ্রমিক সংগঠনের স্বাধীনতা আছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়। আইএলও দেখবে। অ্যাকর্ড কেন দেখবে? তারা শ্রমিক সংগঠনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে পারে।

অবশ্য অ্যাকর্ডের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শ্রমিকনেতা আমিরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, শ্রমিকের মতপ্রকাশের অধিকার সংরক্ষিত আছে। ফলে অ্যাকর্ড যদি শ্রম সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করে, তবে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং আমাদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে। এমনকি গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।’

Leave a Reply

Top