অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো ‘আবাসিক অঞ্চল’ প্রয়োজন – Live News BD, The Most Read Bangla Newspaper, Brings You Latest Bangla News Online. Get Breaking News From The Most Reliable Bangladesh Newspaper; livenewsbd.co
You are here
Home > জাতীয় > অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো ‘আবাসিক অঞ্চল’ প্রয়োজন

অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো ‘আবাসিক অঞ্চল’ প্রয়োজন

আজ শনিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘আবাসন খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন বক্তারা।

স্টাফ রিপোর্টারঃ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো ঢাকার বাইরে আবাসন খাতের জন্য আবাসিক অঞ্চল করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মত, এর ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ কম দামে জমি পাবেন গ্রাহকেরা।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে আবাসন খাতে সরকারিভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন, এ ক্ষেত্র বেসরকারি খাতের কিছু করার নেই বলেও মনে করেন এই আলোচকেরা। তাঁদের ভাষ্য, চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য দিয়ে বাংলাদেশের নগরায়ণের নীতি এখন নির্ধারণ হয় না।
আজ শনিবার প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘আবাসন খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াজ লিমিটেডের (বিটিআই) সহযোগিতায় ও প্রথম আলোর আয়োজনে গোলটেবিল বৈঠকটির সঞ্চালনায় ছিলেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।
বৈঠকের শুরুতেই বিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে একটি আদর্শ অবস্থায় আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের কীভাবে কাজ করা উচিত, তা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে ঝুঁকি ও ক্রেতাদের কোন কোন বিষয়ে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে, তা তুলে ধরেন।
২০১২ সাল থেকে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ঝুঁকিতে আছেন বলে বলেন সাবেক রিহ্যাব সভাপতি ও শেল্‌টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক এম সেরাজ। তিনি বলেন, অসম প্রতিযোগিতার কারণে ২০১২ সাল থেকে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকিতে আছেন। অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবাসন ব্যবসায়ী এ খাতে যুক্ত হয়ে ফ্ল্যাট তৈরির কাজ শুরু করেও শেষ করতে পারেননি। ফলে যাঁরা পেশাদার ব্যবসায়ী, তাঁদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।
এ সময় সাবেক রিহ্যাব সভাপতি ও বিল্ডিং ফর ফিউচার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভিরুল হক প্রবাল বলেন, আবাসন খাতের জন্য ইকোনমিক জোনের (অর্থনৈতিক অঞ্চল) মতো রেসিডেনসিয়াল জোন (আবাসিক অঞ্চল) করা প্রয়োজন। তাহলে সুযোগ-সুবিধাসহ ফ্ল্যাটের দাম কমে আসবে, ঝুঁকিও কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে যদি বিকেন্দ্রীকরণ না করা হয়, তাহলে বেসরকারি খাত কিছুই করতে পারবে না।
গোলটেবিল বৈঠকে সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তানিয়া আমীর বলেন, আবাসন খাতে আইনগত জটিলতা রয়েছে। ফ্ল্যাট কেনার সময় ক্রেতাদের অনেক দায়িত্ব থাকে। ফ্ল্যাট কেনার সময় আইনি জটিলতা সামলাতে গ্রাহকের নিজস্ব আইনজীবী সঙ্গে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ সময় বক্তারা বিভিন্ন সমস্যা ও ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পর ঋণ কত দিনে পরিশোধ করতে পারব, এ বিষয়টি ক্রেতাদের বুঝতে হবে।’ তাঁরা আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে চুক্তিপত্রে সই করেও বুকিং বাতিল করতে চান অনেক গ্রাহক। সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অনেক বেশি হয় বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ক্রেতা।
ক্রেতাদের মতে, ফ্ল্যাট কিনতে যে ঝুঁকিগুলো দেখা যায় তা হলো, প্রাথমিক চুক্তিপত্রে চুক্তির সব বিষয়বস্তু থাকে না, এ ছাড়া আবাসন ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কর্মকর্তারা অনেক বিষয় স্পষ্ট করে না বলে এড়িয়ে যান, বাড়ির অবকাঠামো পরিকল্পনার যে ছবি দেখানো হয়, বুঝে পাওয়ার পর অবিকল থাকে না, এ ছাড়া ব্যাংকে ঋণের ক্ষেত্রেও অনেক গোপন ব্যয় থাকে, যা প্রথমে বোঝা যায় না, পরে বোঝা যায়।
ক্রেতাদের এই ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় বিভিন্ন পরামর্শ দেন বক্তারা। বিটিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল আমিন বলেন, ফ্ল্যাট কেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো বরাদ্দপত্র। অনেক ক্রেতায় এই বরাদ্দপত্র পুরোপুরি বোঝেন না। ক্রেতাকে বুঝে নিতে হবে, যদি বিক্রেতা তাঁকে দেরিতে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেয়, তাহলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কেমন হবে। বরাদ্দপত্রে সই করার আগে রাজউকের অনুমোদন আছে কি না এবং ফ্ল্যাট কেনার পর দাম বাড়ানো হবে, এমন কথা চুক্তিপত্রে লেখা আছে কি না, তা দেখে নিতে হবে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের কাছে তাঁদের বিশ্বাসের জায়গা তৈরি করতে হবে জানিয়ে এ আর গোলাম নাসির বলেন, অ্যাপার্টমেন্টের নকশা পেশাদার স্থপতিদের দিয়ে দেখিয়ে নিতে হবে। তিনটি বিষয় দেখে নেওয়া উচিত তা হলো, বৈদ্যুতিক, গাঁথুনি ও অবকাঠামো।
তবে সর্বোপরি আবাসন খাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজউকের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন গোলটেবিল বৈঠকের বক্তারা। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মো. শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, রাজউকের অবস্থা পরগাছার মতো। পরগাছা হিসেবেই আছে। রাজউক যদি সত্যিকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করত, তাহলে এ খাতে ঝুঁকি কমে যেত।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন এ টি এম নুরুল আমীন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য এ এস জহির মাহাম্মদ, ডেলটা ব্র্যাক হাউজিং ফিন্যান্স করপোরেশন লিমিটেডের নির্বাহী সহসভাপতি নাসিমুল বাতেন, আর্কিটেক্ট ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের সভাপতি এ আর কাজী গোলাম নাসির, স্থপতি এ আর ইমতিয়াজ আহমেদ, বিটিআইয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার মো. আহসানুল হক প্রমুখ।

Leave a Reply

Top