You are here
Home > অর্থনীতি > অচলাবস্থা সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের

অচলাবস্থা সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের

অনিয়ম, লুটপাট আর অব্যবস্থাপনার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের কার্যক্রম। ব্যাংকটি এখন দেশের জন্য এক প্রকার বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ কারণে ব্যাংকটি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও অন্তত একজন বিদেশি প্রকল্প ব্যবস্থাপক যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।

দেশীয় গ্রাহকের ঋণপত্রের নিশ্চয়তা ও প্রবাসীদের সেবা দিতে ২০০১ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড। এতে সোনালী ব্যাংকের শেয়ার ৪৯ শতাংশ ও সরকারের ৫১ শতাংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেড পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব অনিয়ম। অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতাসহ চারশ’ ৫ ধরনের অনিয়ম উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্র্যাডফোর্ড শাখা থেকে চিটাগাং সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর হোসেন ব্যাংকের রেসট্রিকটেড এলাকায় প্রবেশ করেন ও গোপন নথি ধ্বংস করেন। যার সঙ্গে কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল।

সোনালী ব্যাংক ইউকে’তে টেলার পদে দু’জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা কাজ করেন ফরেন ট্রেড ডিভিশনে। কিন্তু তাদের নিয়োগের কোনো কাগজপত্র নেই। লোকবলের প্রশিক্ষণের নামে দেখানো হয়েছে যাচ্ছেতাই ব্যয়।

কেবল ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পেছনেই ব্যয় হয়েছে প্রশিক্ষণের ৫২ শতাংশ।

আর ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নামে পদ সৃষ্টি করা হয়েছে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বলা হয়েছে, বার্মিংহাম শাখা থেকে বাংলাদেশের ব্যাংক এশিয়ার শান্তিনগর শাখা থেকে ২৪ হাজার ৩৯৪ ডলার পাঠানো হয় আউটসোর্স এক্সপোর্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে। কাগজপত্রের কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেখান থেকে অ্যাকাউন্টধারী সুনুকা বেগমের স্বাক্ষর জাল করে তোলা হয়েছে ৫ হাজার ডলার।

ব্যাংকটিতে আমানতের পরিমাণ ঠেকেছে তলানিতে। এর ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ আমানতই নেওয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। আর স্থানীয় আমানত মাত্র ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। আমানত সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি গুরুত্ব দেয়নি সোনালী ব্যাংকের নীতিকে, আবার মেনে চলেনি সে দেশের রীতিনীতিও।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্যাংকটিকে ৩ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি- এফসিএ। পাশাপাশি কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে বেশ কিছু শর্তও বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হয় ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ ক্ষেত্রেও মানা হয়নি কোনো নিয়ম, আহ্বান করা হয়নি কোনো দরপত্র। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করা হয়, যা ব্যাংকিং রীতির উল্টো।

ব্যাংকের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ১৭ দশমিক ০৭ মিলিয়ন ডলার মূলধন যোগান দিয়েছে সরকার। তবে তা মূলধনের সমানুপাতিক না হওয়ায় এ অর্থকে মূলধন হিসেবে দেখাতে আপত্তি তুলে সে দেশের প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশন অথরিটি।

কোর ব্যাংকিং চালুর জন্য ২০১০ সালে এসপিএফটিএল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয় সোনালী ব্যাংক যুক্তরাজ্য শাখা। এ নিয়োগে কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। কাজ শেষ না করেই প্রতিষ্ঠানটি বাগিয়ে নেয় শূন্য দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার, যা মোট ব্যয়ের ৮৫ শতাংশ।

যথাসময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় গত বছর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। তবে ফেরত আসেনি কোনো অর্থ।

২০০৬ সাল থেকেই অব্যাহতভাবে রেমিট্যান্স ব্যবসায় মার্কেট শেয়ার হারাতে শুরু করে ব্যাংকটি। এ সময়ে ব্যাংকটির রেমিট্যান্স নেমে আসে ৩৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন ডলারে।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি বৃদ্ধিতে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন তা ভালোভাবে চলছে না। অব্যাহতভাবে রাষ্ট্রের লোকসান হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আর অর্থমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিবেন। তবে, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এ ব্যাংক এখনই বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Top